মোদির জন্য সাত পর্বের ভোট কেন এত জরুরি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

রাত পেরোলেই ভারতে ভোট। প্রথম পর্ব। শুক্রবার ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১০২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোট-যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জয়-পরাজয়ে ঠিক হবে আগামী পাঁচ বছর ভারত কোন দল বা জোটের শাসনে থাকবে। ভারতের নির্বাচনী বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, নরেন্দ্র মোদি হেসেখেলে তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হতে চলেছেন এবং তিনি আরও বেশি আসন নিয়ে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড স্পর্শ করবেন। তবে এর পাল্টা দাবি এবং যুক্তিও আছে। সে কথা পরে।

ভারতের নির্বাচন কমিশন সাতটি পর্বের যে নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক করেছে, তা বেশ আগ্রহ উদ্দীপক। গত ১৬ মার্চ কমিশন নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করে জানায়, ১ জুন সর্বশেষ ভোট নেওয়া হবে। এরপর গণনা হবে ৪ জুন। অর্থাৎ, ৮১ দিন ধরে চলবে এই নির্বাচনী পর্ব। শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে এটা একটা রেকর্ড। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। প্রায় ৯৭ কোটি ভোটার। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলে সংখ্যা ৩৮। এর মধ্যে আবার কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভার ভোটও হবে। ফলে সময় লাগাটা খালি চোখে তেমন কিছু নয় বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে অনেক হিসাব বেরোতে পারে, যা চোখ কপালে তোলার মতো।

সেটা দেখার আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। ১৯৯০-এর দশকে ভারত সরকারের জরিপে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দেশের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল নির্বাচন কমিশন। এই হার ছিল ৫৭ শতাংশ। বলার অপেক্ষা রাখে না এই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের বড় কৃতিত্ব এক তামিল ব্রাহ্মণ সন্তানের, যাঁর নাম টি এন সেশন। প্রয়াত রাজীব গান্ধী তাঁকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রচলিত আইনের কঠোর ব্যবহারের মাধ্যমে কমিশন চাইলে নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব, তা তিনি দেখিয়ে গেছেন। তাঁর উত্তরসুরীরাও সেই পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা করেছেন। যে কারণে ২০০৪ সালে ৮০ শতাংশের বেশি ভারতীয় বিশ্বাস করতেন নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ। একেবারে সর্বশেষ জরিপে (সিএসডিএস–লোকনীতি জরিপ ২০২৪) দেখা যাচ্ছে, ৫৮ শতাংশ ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। এই তথ্যের উল্লেখ করা এ কারণে প্রয়োজন যে, তাহলে আমাদের পরবর্তী আলোচনা বুঝতে সহজ হবে।

আগামীকাল ১৯ এপ্রিল শুক্রবার প্রথম পর্বের ভোটের দিনের কথা ধরা যাক। সাত পর্বের মধ্যে এই দিনই সবচেয়ে বেশি আসনে ভোট হবে। যারা একটুআধটু খোঁজ রাখেন, তাঁরা জানেন গতকাল ১৭ এপ্রিল বুধবার বিকেল ৫টায় প্রথম পর্বের জন্য নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়ে গেছে। আর এই দিন ছিল রামনবমী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিন রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার ঘরে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার হিসেবে রামচন্দ্রের জন্ম হয়। উত্তর ভারতে, বিশেষ করে হিন্দিভাষী রাজ্যে দিনটি সব সময় বেশ ধুমধাম করে ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। বিজেপি, আরএসএস এবং এর একাধিক অঙ্গ সংগঠন গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দিবসটি পালনের মধ্যে দিয়ে এটাকে একটি অভিন্ন হিন্দু উৎসবের রূপ দেওয়ার চেষ্টায় আছে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে (মোদি কি গ্যারান্টি) রামমন্দির তৈরির নাম পর্যন্ত নেয়নি। অথচ বুধবার দেশজুড়ে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় শুক্রবার ভোট, সেখানে ব্যাপক ধর্মীয় আবেগ তৈরির চেষ্টা চলেছে, যাতে শেষ মুহূর্তে হিন্দুজনমনে রামমন্দিরকে জিইয়ে রাখা যায় এবং এর প্রতিফলন ভোটবাক্সে পড়ে। একটি দিন ঠিক করার পেছনে কত কারণ থাকে এবং কমিশন কেন বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, তার কিছুটা হলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বুধবার আরেকটি বিষয় ঘটে গেছে। এদিন এবিপি (আনন্দবাজার পত্রিকা), টাইমস (টাইমস অব ইন্ডিয়া), জি-নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে, ইন্ডিয়া টিভিসহ একাধিক টিভি চ্যানেল ভোট-পূর্ববর্তী নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ করে। এই জরিপে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৩৫ থেকে ৩৯৮টা আসন পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নরেন্দ্র মোদি যে তৃতীয়বারের ক্ষমতায় আসছেন, তা মূলধারার সব টিভি চ্যানেল জনমত জরিপ প্রকাশের নামে ভোটের আগেই দেশের মানুষকে জানিয়ে দিয়েছে। আর নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন বুধবারের কথা ভাবুন। ওই দিন সকাল থেকেই বড় বড় টিভি চ্যানেলের স্ক্রিন সারা দিন ধরে জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও রামনবমী উৎসব পালনের দখলে ছিল। কারণ তারা জানত, বিকেল ৫টার পরে আর এটা প্রচার করা যাবে না। বাকি কাজটা তারাসহ বিভিন্ন সরকারপন্থী ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া করে দিয়েছে। আর এর ফসল কাদের ঘরে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম গত বছর সরকারের সাথে মিলেমিশে এমন একাকার হয়ে গেছে যে, তা ‘গদি মিডিয়া’ নামে একটি নতুন শব্দের জন্ম দিয়ে ফেলেছে। এই শব্দ এখন শুধু ভারতে নয় সারা বিশ্বেই পরিচিতি লাভ করেছে।

এ তো গেল প্রথম পর্বের ভোটের কথা। পরের পর্ব এবং প্যাটার্নের দিকে একটু নজর ফেরানো যাক। এই নির্বাচনে এক দিনে ভোটগ্রহণ শেষ হবে পাঁচ রাজ্যে। রাজ্যগুলো হলো তামিলনাড়ু (৩৯), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫), তেলেঙ্গানা (১৭), কেরালা (২০) ও গুজরাট (২৬)। আর সাত পর্বের প্রত্যেকটিতেই ভোট নেওয়া হবে উত্তর প্রদেশ (৮০), পশ্চিমবঙ্গ (৪২) ও বিহার (৪০)-এ। বুঝলেন কিছু? ৩৯ আসনের তামিলনাড়ুতে ভোট হবে এক দিনে, অথচ ৪০ আসনের বিহার ও ৪২ আসনের পশ্চিমবঙ্গে ভোট নেওয়া হবে সাত দিন ধরে। এই দুই রাজ্যে ভোটের পরিবেশ কি এতটাই খারাপ? আসলে খেলাটা অন্য জায়গায়। দক্ষিণের পাঁচ রাজ্য তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কেরালায় মোট আসন ১২৯। গত নির্বাচনে মোদি জোয়ারে এর মধ্যে ২৯টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। তার মধ্যে ২৫টি কর্ণাটকে ও ৪টি তেলেঙ্গানায়। এবারও এর বিশেষ হেরফের হবে—এমন সম্ভাবনা কম। সে কারণে চারটি রাজ্যে এক দিনে ভোট হলে বিজেপির জন্য অসুবিধা। বরং কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারে থাকায় সেখানে দুই দিনে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুজরাটে গতবার ২৬টির মধ্যে সবকটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। ফলে মোদির নিজের রাজ্য নিয়ে চিন্তা না থাকায় এক দিনে ভোট হওয়ার পথে কোনো সমস্যা নেই। একই হিসাব থেকে ২৫ আসনের রাজস্থানে দুই পর্বের বেশি ভোট রাখা হয়নি। ওই রাজ্যে কিছুদিন আগেই বিজেপি সরকার গড়েছে। অতএব চিন্তার কিছু নেই।

এরপর দেখুন পাঁচ পর্বে ভোট হবে মহারাষ্ট্র (৪৮) এবং জম্মু ও কাশ্মীরে (৫)। চার পর্বে ভোট হবে ঝাড়খন্ড (১৪), মধ্যপ্রদেশ (২৯) ও ওডিশায় (২১)। এই সাতে-পাঁচে ও চারে মিলে আসন সংখ্যা ২৭৯, যা অর্ধেকেরও বেশি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ২৭৯ আসনের মধ্যে বিজেপি ও জোট সঙ্গীরা পেয়েছিল ২১৩টা; অর্থাৎ, ৭৬ শতাংশের বেশি আসন। আসামে তিন দফায় ১৪টি আসনে নির্বাচন হবে। বিজেপির এবারের স্লোগান ‘আর বার ৩৭০ পার’। এই ৩৭০ পার করতে হলে এসব রাজ্যে তার আসন সংখ্যা অনেক বাড়াতে হবে। কারণ, গতবার মোদিময় নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ৩০৩টি আসন জিতেছিল। অর্থাৎ, এবার তাদের কথা রাখতে হলে অতিরিক্ত ৬৭টি আসন অন্যদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে হবে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সে সম্ভাবনা থাকলে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতই ভরসা।

এখন বলা যেতেই পারে, নির্বাচন–পূর্ববর্তী জনমত জরিপে মোদি সরকারকে তো চার শ আসন দেওয়াই হচ্ছে। তাহলে এত চিন্তার কী আছে? চিন্তা তো আছেই। না হলে বিরোধী পক্ষের দুজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে ভরতে হবে কেন? এমন আইনে মামলা দেওয়া হবে কেন, যেখানে তারা মাসের পর মাস জামিন পাবেন না? কেন কংগ্রেসের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে, ১৭০০ কোটি রুপি জরিমানা করা হবে নির্বাচনের ঠিক আগে? কেন বিরোধী নেতাদের গণহারে দলে টেনে তাদের ওপর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ (বিজেপির তোলা) মুছে ফেলতে হবে? বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সাথে সাথেই কেন ওই প্রার্থীর কাছে ইডির সমন আসবে, হবে সিবিআই-এর রেইড? নির্বাচনের এই সময়কালে এবং এর আগে মোদি সরকার এমন অনেক কাজ করেছে, যাতে এমন বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শুধু কী এটাই? নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি ক্ষমতায় থাকায় বিজেপির মধ্যে এই ধারণা পরিব্যপ্ত হয়েছে যে, গুজরাটের বাইরে কারও কোনো দাম নেই। বলা হয়ে থাকে, দল হিসেবে বিজেপি মূলত ঠাকুর/রাজপুত-বেনিয়া-ব্রাহ্মণদের দল। হিন্দু সমাজের এই অংশ বিজেপির কট্টর সমর্থক। এখানে ভাঙন ধরেছে। ঠাকুর ও রাজপুতদের মধ্যে এই বিশ্বাস গেড়ে বসেছে যে, বিজেপি আর কখনো তাদের কথা ভাববে না। এ কারণে গুজরাট, রাজস্থান ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশের ঠাকুর ও রাজপুতরা পঞ্চায়েত বসিয়ে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কথা বলছে। তাদের ধারণা, মোদি-শাহ জুটি তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঠাকুর সম্প্রদায়ের যোগী আদিত্যনাথকে আর ওই পদে রাখবেন না। কারণ, মোদির পরে অমিত শাহকে দলের কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, তিনি হলেন যোগী। অতএব পথের কাঁটা রাখা কেন? রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় যেভাবে দলের প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে, তাতে এই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে কে নেতা হবেন, কাকে ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ দেওয়া হবে, তা পুরোপরি এই গুজরাটি জুটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। প্রথম পর্বের প্রচারের শেষ দিনে যোগী কোনো দলীয় প্রচারেই যাননি। তিনি ছিলেন গোরক্ষপুরে, নিজের আশ্রমে।

আরেকটি বিষয় খেয়াল করুন, ২০১৪ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটকে হারিয়ে ক্ষমতায় বসেছিল এনডিএ জোট, যাদের নেতা ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিছুদিনের মধ্যে এটা হয়ে গেল বিজেপি সরকার। পরে সে পরিচয় হারিয়ে এখন শুধুই মোদি সরকার। অর্থাৎ, পুরোটাই মোদিময়। বিজেপির মতো সাংগঠনিকভাবে পাকাপোক্ত দল কতটা মোদিময় হয়ে পড়লে একটা দলের নির্বাচনী ইশতেহারের নাম হয়—মোদি কি গ্যারান্টি! এতসবের পরও এই বিজেপি ও তার নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হাস্যকর রকমের পারিবারিক দলের অভিযোগ আনেন।

নরেন্দ্র মোদি গত ১০ বছরে নিজেকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যে, দলে তাঁর বহুদূরবর্তী বলে কোনো নেতা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে যদিও–বা মোদির পরের নেতা হিসেবে ধরা হয়, তাহলেও তিনি এক শর মধ্যেও আসবেন না। এই কারণে ভারতজুড়ে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারকে সাজানোই হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্যস্তরের নেতারা কে কোথায় প্রচার চালাচ্ছেন বা চালাচ্ছেন না, তা কেউ ধর্তব্যের মধ্যেও আনছে না। এমনকি তাদের সমর্থক গোদি মিডিয়াও। মোদির সাথে শুধু রাখা হয়েছে, ইডি, সিবিআই, এনআইএর মতো রাষ্ট্রযন্ত্রকে। এই সিস্টেমের কাছে বিজেপির মজবুত সংগঠনও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ অমিত শাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নরেন্দ্র মোদি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ৪৩৭টি বড় সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। ৫৮২৭টি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর ২৫টি রাজ্যজুড়ে তিন লাখ কিলোমিটারেরও বেশি ভ্রমণ করে জনগণের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন। বিষয়টি সত্য। এই সময় পুরো ভারত তিনি চষে বেড়িয়েছেন বন্ধু আদানির বিলাসবহুল জেটে। প্রথমবারই তিনি কাউকে স্থান দেননি। আর দুবার দলকে ক্ষমতায় আনার পরে দেবেন, এ চিন্তা তো দূরস্থান। হিসাব করে দেখুন ২০১৩-১৪ সালে মোদির ভারত পরিক্রমায় সময় লেগেছিল আট মাস।

আর এবার যদি ৮১ দিন; অর্থাৎ, তিন মাসেরও কম, এই সময়টুকু যদি তাঁকে না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ঘুরবেন কীভাবে? এ জন্য নির্বাচনী দিনক্ষণ সাজানো হয়েছে সেভাবে। গতবার পশ্চিবঙ্গে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়েছিল। এবার তাদের বিশ্বাস ২২-৩৫টা পাবে। অর্থাৎ, এত আসন যদি বাড়াতে হয়, তাহলে এই রাজ্যে বারবার আসতে হবে তাঁকে। কারণ মুখ-মুখোশ সবই তো তিনি। বিহারে নীতিশের মতো নীতিহীন পল্টিবাজকে সাথি করে ৪০টির মধ্যে ৩৯টি আসন টিকিয়ে রাখা অনেক কষ্টের। উত্তর প্রদেশে যোগীর মতো নেতাকে সাইডলাইনে ফেলতে হলে ঘুরে–ফিরে সেখানে যেতেই হবে। আছে মহারাষ্ট্র। শিবসেনা ও এনসিপির একদল নীতিহীন নেতাকে নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন সম্ভব, কিন্তু মানুষের মন জয় কি সম্ভব? এই জন্যই তো মনোরঞ্জনবাদী নরেন্দ্র মোদিকে দরকার। ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ—সর্বত্র একই চিন্তা। যে যুদ্ধের একক মুখ নরেন্দ্র মোদি, সেখানে তো ৫৬ ইঞ্চি ছাতি উঁচিয়ে তাঁকেই ছুটতে হবে, আর এত পথ পাড়ি দিতে হলে সময় তো লাগবেই।

বোঝা গেল কিছু!

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
বাংলাদেশে জাতীয় ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম দেখলে পবিত্র কোরআনের সুরা কাহাফের ১০৩ ও ১০৪ নম্বর আয়াতটি মনে পড়ে। রকিব, হুদা, আউয়াল কমিশনগুলোর কাণ্ডকারখানা ও তাদের জেলবন্দিত্ব এবং বর্তমান...
নেপালসহ দেশে দেশে সরকার পতন ও এরপরের ‘খিচুড়ি’ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো না হয় ‘ডাল’ আর ‘চাল’-এর ভূমিকা নিয়েছে। আগুন হিসেবে কাজ করেছে জেন জি-র ক্ষোভ। কিন্তু খিচুড়ি রান্নার...
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও ১৬ ডিসেম্বর অপারেশন শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা ও গ্রাউন্ড...
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং তা সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকেরা যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার...
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় সাতক্ষীরাযর রসুলপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু নামে এক আর্জেন্টিনার সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি...
লোডিং...

এলাকার খবর