এক অতিকায় মানুষকে হারানোর বেদনা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৯ এএম

কিছু মৃত্যু আছে, যাদের ভার আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দিলে সেটি বহন করা যায় না—না শরীরে, না মনে। যতীন স্যারের মৃত্যু আমার কাছে ঠিক তেমনই এক অসহনীয় বোঝা।

আজ (বুধবার) দুপুরে, অফিসের কর্মব্যস্ততার ভিড়ে, হঠাৎ এক সুহৃদ ফোন করে খবরটি দিলেন—“স্যার নেই!” মুহূর্তেই যেন চারপাশের সব শব্দ থেমে গেল। কাগজপত্র, কম্পিউটারের স্ক্রিন, ফাইলের স্তূপ—সব যেন নিস্তব্ধ, অথচ আমার ভেতরে জমে উঠছে অস্থিরতার এক জোয়ার। বুকের ভেতর একটা শূন্যতার হাহাকার ছড়িয়ে পড়ল। চাইলেও নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলাম না। স্যারের কথা লিখতে বসার মতো মানসিক শক্তিও তখন ছিল না। মনে হচ্ছিল—না, এই দুঃসংবাদ কল্পনাতেও আসতে পারত না।

হ্যাঁ, জানতাম স্যার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতাল আর বাসার মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর। তবুও, যাঁর প্রাণশক্তি ছিল একদম দুর্বার তরুণের মতো, তাঁকে আমি সুস্থ হয়ে ওঠার বাইরেই ভাবতে পারিনি। তাঁর মেয়ে সুদীপ্তা, পুত্রসম মেয়ের জামাই রাজিব, চিকিৎসক শুভানুধ্যায়ী—সবাই প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম মেনে বুধবার দুপুরে স্যার অনন্তলোকে পাড়ি দিলেন! 

শেষবার যতীন স্যারকে দেখেছিলাম বছর দুই আগে, নেত্রকোনায়। সন্ধ্যা নামছিল মগড়া নদীর ওপর। সাতপাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশনের পাশে তাঁর বাসা—‘বানপ্রস্থ’। চারদিক গাছগাছালির ছায়ায় ঢাকা, যেন এক টুকরো শান্তির নীড়। প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে আছে তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি—নীরব, অথচ কথায় ভরা। আমাদের প্রথম পরিচয় ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের হিন্দু পল্লীতে। যেহেতু তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই সবাই তাঁকে স্যার সন্বোধন করতেন। আমিও তাঁকে স্যার বলতাম। অজানা কারণে স্যার আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—যা বজায় ছিল আমৃত্যু।

সেদিন দেখেছিলাম, বয়সের ভারে শরীর দুর্বল, ঘাড়ের হাড় ক্ষয়ে হাত-পায়ে শক্তি নেই। কিন্তু প্রাণশক্তি? সেটা ছিল অটুট। রেজাউল সিদ্দিক রানা ভাই, এ টি এম তাহমিদুজ্জানসহ আমরা কয়েকজন মিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছিলাম। তাঁর চিরাচরিত রসিকতা, প্রাণখোলা হাসি, আর কেন্দুয়ার আঞ্চলিক উচ্চারণে ভরপুর গল্পে সময় যেন উড়ে গেল। তখন তাঁর বয়স ৮৮—তবুও মনে হচ্ছিল, তাঁর ভেতরের তরুণ এখনো বেঁচে আছে। ফিরে আসার সময় বুকের ভেতর কেমন এক বিষাদ জমে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল—জীবনের এই একাকী সন্ধ্যাগুলোতে যদি তাঁর কাছে থাকতে পারতাম! কিন্তু আমাদের জীবনের বেশির ভাগ ইচ্ছেই তো পূরণ হয় না!
স্যারের সঙ্গে প্রথম পরিচয় সেই ১৯৯৫-এ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে ‘গণ সাহায্য সংস্থা’র চাকরিতে ময়মনসিংহে যাওয়া। কর্মসূত্রে হলেও, পরিচয় হয়ে উঠেছিল গভীর মুগ্ধতায় ভরা। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় হিন্দু পল্লীর সেই ছোট্ট বাসায় যেতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলত আড্ডা—সাহিত্য, রাজনীতি, হাস্যরস—সব মিলিয়ে যেন এক বর্ণিল সন্ধ্যা। শুধু মাসিমার মুখোমুখি হতে আমার কুণ্ঠা হতো। কারণ স্যারের পীড়াপীড়িতে প্রায়ই রাতের খাবার খেয়ে তবেই ফিরতাম, আর এর ধকলটা শেষমেশ মাসিমার কাঁধেই পড়ত।

আমি জীবনে দ্বিতীয় কোনো মানুষকে দেখিনি যিনি একসাথে এত জ্ঞানী, হাস্যরসিক, নির্লোভ এবং প্রাণবন্ত। কেন্দুয়ার টানে উচ্চস্বরে কথা বলতেন, কিন্তু প্রতিটি শব্দে থাকত দৃঢ়তা। ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, সাহিত্য, দর্শন—যা-ই হোক, স্যারের লেখার গভীরতা ও স্বচ্ছতা অতুলনীয়। তিনি ছিলেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ, বইয়ের আদর্শ ও জীবনের আদর্শকে এক করে যিনি জীবনযাপন করেছেন।

তাঁর মতো প্রজ্ঞাবান রসিকজন আমি জীবনে দ্বিতীয়টি দেখিনি। তিনি যেমন হাসতে পারতেন, তেমন পারতেন হাসাতে। লৌকিক বাংলার হাসির হেন কোনো উপাদান নেই, যা যতীন স্যার জানতেন না। ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, সাহিত্য, দর্শন, লৌকিক ঐতিহ্য–এসব বিষয় নিয়ে যতীন স্যারের চেয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখা বাংলা ভাষায় আর কে লিখেছে? স্যারের লেখা প্রাঞ্জল, তাঁর বাংলা অন্য কাউকে অনুবাদ করে দিতে হয় না! জ্ঞান, প্রজ্ঞা, রসবোধ, জীবনবোধ–সবকিছুই যতীন স্যারের অসাধারণ। যতীন স্যার আমার কাছে একজন জ্ঞান তাপস। জীবন্ত অ্যানসাইক্লোপিডিয়া। বইয়ের আদর্শ আর জীবনের আদর্শ–এই দুইকে এক করে জীবনচর্চাকারী হিসেবে যতীন স্যারের বাইরে আর কাউকে দেখিনি। ইহজাগতিক লোভ-লাভ, এমনকি খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে সারাজীবন মফস্বলে কীভাবে কাটিয়ে দেওয়া যায়–যতীন স্যার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা সাহিত্যের সাবেক এই শিক্ষক দীর্ঘকাল ধরে মননশীল সাহিত্য চর্চা, বাম রাজনীতি এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তিনি দুবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি হয়েছেন। এ ছাড়া কর্মী, সংগঠক ও অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের। দীর্ঘ ১৮ মাস জেল খেটেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। যতীন সরকারের প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে, তার পঞ্চাশ বছর বয়সে। প্রথম বইয়ের নাম ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’। এর পর একে একে প্রকাশিত হয়-অর্ধশতাধিক বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে বাংলাদেশের কবিগান, বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সংগ্রাম, মানবমন, মানবধর্ম ও সমাজবিপ্লব, দ্বিজাতিতত্ত্ব, নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞান-চেতনা, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাচার, আমাদের চিন্তাচর্চার দিক-দিগন্ত, রাজনীতি ও দুর্নীতি বিষয়ক কথাবার্তা, ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূত ভবিষ্যৎ, পাকিস্তানের ভূত দর্শন, ভাষা সংস্কৃতি উৎস নিয়ে ভাবনা চিন্তা, প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন, সত্য যে কঠিন, আমার রবীন্দ্র অবলোকন, কালের কপোল তলে, প্রান্তিক ভাবনা পুঞ্জ, ব্যাকরণের ভয় অকারণ ইত্যাদি। এ প্রবন্ধ গ্রন্থগুলোর পাশাপাশি শিশুদের জন্য সুপাঠ্য একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘গল্পে গল্পে ব্যাকরণ’ বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে এবং ব্যাকরণ গ্রন্থের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বাংলা একাডেমির জীবনী গ্রন্থমালার মধ্যে চারটি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। সেগুলো হচ্ছে, ‘কেদারনাথ মজুমদার’, ‘চন্দ্রকুমার দে’, ‘হরিচরণ আচার্য’, ‘সিরাজউদ্দিন কাসিমপুরী’। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী’, ‘প্রসঙ্গ মৌলবাদ’ ও ‘জালাল গীতিকা সমগ্র’। এর মধ্যে নন্দিত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘জালাল গীতিকা সমগ্র’ বাংলাসাহিত্যে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সম্পাদনা। এ ছাড়া যতীন সরকার রচনাসমগ্র নামে ৬টি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। 

বাঙালির বুদ্ধির মুক্তি ও চেতনার বিকাশে সমর্পিত এই চিন্তাবিদ পাকিস্তানের ইতিহাস রচনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন তাঁর ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু দর্শন’ নামক অনবদ্য গ্রন্থে। ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, সাহিত্য, লৌকিক ঐতিহ্য ইত্যকার বিষয় নিয়ে তাঁর মর্মভেদী লেখাগুলো সচেতন পাঠকের নজর কেড়েছে। তাঁর লেখালেখি শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, দর্শন ও ধর্মের বিস্তৃত জগতেও তাঁর অবাধ বিচরণ। গেল পাঁচ দশকে তাঁর রচনা এ দেশের সমাজ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্যে পরিণত হয়েছে। চিন্তার স্পষ্টতায়, বিশ্লেষণের তীক্ষ্ণতায়, বক্তব্যের ঋজুতায় ও জীবন দর্শনের বলিষ্ঠতায় তাঁর প্রবন্ধ হয়ে উঠেছে সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। অসম্ভব বিনয়ী অথচ জেদি এই মানুষটি প্রায়ই বলতেন, ‘আমি প্রতিভাবান নই। আমি কষ্ট করে লিখি। যা লিখি, তাও আবার পড়ে আমারই পছন্দ হয় না। এসব কারণে ভরসা পাইনি এবং এখনও পাই না। অন্যরা হয়তো ভদ্রতাবশত প্রশংসা করে।’ যতীন সরকার ‘সংস্কৃতিকে রাজনীতির চূড়ায় বসিয়ে সংস্কৃতির মধ্যে যে অনুশীলনজাত মননগত উৎকর্ষ ও মূল্যচেতনা রয়েছে, তা দিয়ে রাজনীতিকে আলোকিত করার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনীতিকে পরিশোধিত করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের পিছু হটে-যাওয়া মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হলে, ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং এরকম আরও অনেক করণীয় সম্পন্ন করতে হলে সাংস্কৃতিক জাগরণের কোনো বিকল্প নেই। 

যতীন স্যারের আস্থা ছিল জনগণের সংস্কৃতিতে। তিনি সংস্কৃতির দীপশিখা দিয়ে গণচেতনার জাগরণ ঘটাতে চেয়েছেন, নগর ও গ্রামের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে একটি অখণ্ড, আনন্দময় গণসংস্কৃতি গড়ে তুলতে চেয়েছেন। তিনি তাঁর বেশির ভাগ লেখায় ঐতিহ্যচিন্তার শস্যগুলোকে কুড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী ও লোকায়ত জীবনদর্শন, তাঁর বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী চেতনা, তাঁর অন্তর্গত যুক্তিশীলতা আমাদের সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনে খুবই মূল্যবান সামগ্রী। ধর্ম বিষয়ে যতীন স্যারের কিছু ভাবনা এ সময়ের পটভূমিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ধর্মের ব্যাপারে সাধারণভাবে আমাদের সেক্যুলার রাজনীতিক এবং প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা ও অসচেতনতা রয়েছে। আমাদের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা ধর্মের পর্যালোচনার দায়িত্ব না নেওয়ায় তার সুযোগ গ্রহণ করছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রবক্তারা। ধর্মের নানারকম মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচার করে তারা সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে। সাদা চোখেই দেখা যায়, আমাদের প্রগতিশীল মহলে ধর্ম সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং নির্লিপ্ততা যথেষ্ট রয়েছে। অন্তত ধর্মের দিকে চোখ বুঁজে থেকে তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে চাওয়া প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের কাছে কোনোমতেই কাম্য নয়। 

যতীন স্যারের জীবন, কর্ম ও লেখালেখিতে একটা সামাজিক দায়বোধের ব্যাপার আছে। বিশেষ করে লেখালেখি তাঁর কাছে ‘চেতনা জাগানোর কাজ, মানুষের দৃষ্টি এবং ভাষাকে স্বচ্ছ করে তোলার কাজ, নীরবতার সংস্কৃতিকে ভেঙে দেওয়ার কাজ। ফলে তাঁর নিজের দৃষ্টি এবং ভাষাও স্বচ্ছ। তথ্য এবং যুক্তির ফাঁকে ফাঁকে তিনি মাঝে মাঝে কিছুটা কথামৃতে-র ধরনে রূপকধর্মী গল্প কিংবা প্রবাদ উদ্ধৃত করেন’, যা তার বক্তব্যকে আরও হৃদয়গ্রাহী করে তোলে। স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ড. এনামুল হক স্বর্ণপদক, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার, মনিরউদ্দিন ইউসুফ স্মৃতিপদক, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সাহিত্যপদক, আলতাব আলী হাসু পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। 

কিন্তু তারপরও মনে হয়, তিনি যেন জাতীয় পরিমণ্ডলে অনেকটা উপেক্ষিতই থেকে গেলেন! তিনি অসংখ্য ফরমাল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। পত্রপত্রিকায় কলাম লিখেছেন। তাঁর বক্তৃতা কিংবা কলামগুলো সমকালীন হয়েও চিরকালীন। চিন্তার স্বাতন্ত্র্য এবং মৌলিকত্ব খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর প্রতিটি লেখা ও বক্তৃতায়। কিন্তু তাঁর অবদান ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে বলে মনে হয় না। এমনকি তাঁর বিভিন্ন বই নিয়ে, তাঁর লেখালেখি নিয়েও তেমন ভালো কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে, লেখক-সমালোচক-গবেষকদের কাছে তিনি কেন জানি ব্রাত্যই রয়ে গেলেন! ময়মনসিংহের আরেক কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব গোলাম সামদানী কোরায়শী সম্পর্কে যতীন স্যার লিখেছিলেন, ‘তাঁর জীবন ভাবনা তথা জীবন দর্শন ও ব্যক্তি স্বরূপকে কোনও বইয়ে বা লেখায় পুরোপুরি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন ছিল একজন বসওয়েলের। গোলাম সামদানীর জীবৎকালে আমরা কেউই তাঁর বসওয়েলের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। যদি করতাম তাহলে বাঙালি পাঠক একজন এদেশীয় জনসনকে পেয়ে যেত। নানা আড্ডায় ও বৈঠকে তিনি যেসব সিরিয়াস কথা বলেছেন, কিংবা হালকা চুটকি ঝেড়েছেন অথবা নানা ঘটনায় নানান ধরনের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, সেসবের বিবরণ রেকর্ড করা থাকলে বর্তমান প্রজন্মের মানুষ একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের মডেল পেতে পারত।’ আমি নিজে যতীন স্যারকে যতটুকু দেখেছি, চিনেছি, তাতে মনে হয়েছে, তাঁর (যতীন স্যার) সম্পর্কে উল্লিখিত মন্তব্যটি আরও বেশি প্রযোজ্য! কিন্তু আমরা কেউই সেই দায়িত্বটি পালন করিনি! এ জন্য ভীষণ আফসোস হয়! 

ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁকে ভীষণ মিস করব—জ্ঞানী, সৎ, নির্লোভ, তৃপ্ত, প্রাণবন্ত একজন মানুষকে। বাংলাদেশের মতো বনসাইয়ের দেশে তিনি ছিলেন এক অতিকায় বৃক্ষ। এমন বৃক্ষ আর জন্মাবে কিনা—আমি জানি না!

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক
[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

তিনবার প্রধানমন্ত্রী। কখনও নির্বাচনে পরাজিত নন। দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান। কিন্তু এই পরিচয়গুলোও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণতা প্রকাশ করে না। খালেদা জিয়া ছিলেন মূলত এক নীতির নাম, আপসহীনতার রাজনীতি।
আমরা প্রায়ই দুটি শব্দ শুনি–‘নির্মোহ’ এবং ‘সততা’। কিন্তু বাস্তব জীবনে কতজন মানুষকে আমরা সত্যিই নির্মোহ ও পরিশুদ্ধ রূপে দেখতে পাই? কথায় নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সততা বজায় রাখেন–এমন মানুষ কি...
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় মাহফুজা খানমের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। মেধার যোগ্যতায় পিএইচডি করার জন্য তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পাকিস্তানি সরকার রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে...
লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী সুষমা দাস তাঁর সুমধুর কন্ঠ ও গায়কীর মুন্সিয়ানায় অসংখ্য শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রেখেছেন সুদীর্ঘকাল। তাই দেশ–বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে গুণগ্রাহী সংগীতপ্রিয় মানুষেরা তাঁর...
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল হোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জে র‍্যাব-৯-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব কর্মকর্তারা।
বেলুচিস্তানের খোজদার জেলার জিদিতে চালানো এক অভিযানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর