আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দলীয় এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।
উপজেলার সৈয়দটুলা খেলার মাঠে গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ ও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা।
এ সময় তিনি বলেন, আমি জানি না বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কি না—বাপ স্বতন্ত্র, বেটিও স্বতন্ত্র। সময়ই এর উত্তর দেবে।
তাঁর বাবা ১৯৭৩ সালে জনগণের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র হলেও তখন জনগণ ভুল করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আমার বাবাকে জিততে দেননি।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন গঠিত।
বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জানাজার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকায় তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। ওসমান হাদির পর কার নাম আসবে—আমি জানি না।
রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি দেশের ভেতরেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার রাজনীতির আদর্শ ও পথপ্রদর্শক দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি এ দেশের মানুষের পালস বুঝতেন। কোনোদিন দেশ ছেড়ে যাননি। আমি সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ। এখানকার মানুষ যা বলবে, আমি তাই করব।
নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রচার-প্রচারণা থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। থানা থেকে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. মালু মিয়া। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



