কিছু দল হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চায় না অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় মায়েরা ভোট চাইতে গেলে অপমান করছে দুর্বৃত্তরা। আমাদের মায়েদের কি এই অধিকার নাই? তাদের কি এই দায়িত্ব নাই? যারা মায়ের গায়ে হাত তোলে, তারা কোন প্রজাতির আমি বুঝতে পারি না। এরা কি মানুষ প্রজাতির নাকি অন্য প্রজাতির? এই কয়দিন ধরে উৎপাত শুরু হয়েছে। আমরা চাই সবার যার যার কর্মসূচী, পরিকল্পনা, বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাক। মায়েদের অপমান আমরা সহ্য করব না। যদি কোনো দুর্বৃত্ত আপনাদের কটু কথা বলে, তাহলে চোখে চোখ রেখে বলবেন–আমি মা, আমি তোমাদের পরোয়া করি না, আমি পরোয়া করি আল্লাহকে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘কিছু দল, তারা হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই–আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে গিয়ে, সব জায়গায় সবাই বলছি সংস্কারে হ্যাঁ ভোট, গণভোটে হ্যাঁ ভোট। আপনারা হ্যাঁ নাকি না সেটি ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেনো? আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, না লুকিয়ে লুকিয়ে বলে প্রকাশ্যে বলার আহ্বান জানাই।’
এ সময় শফিকুর রহমান এবারের নির্বাচনকে বাক পরিবর্তনের নির্বাচন বলে দাবি করে বলেন, এবারের নির্বাচন ২৬ এর নির্বাচন। এই নির্বাচন ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন, এই নির্বাচন আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণ করা ৩৪ হাজার আহতের নির্বাচন। এই নির্বাচন শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের ৬২ ভাগ যুবক। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। আমরা বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবো।’
সবশেষ তিনি জামালপুর জেলার ৫টি আসনের দলীয় প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জামালপুর জেলা জামায়তের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় ও সদর-৫ আসনের এমপি প্রার্থী, জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতারা।



