আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি। দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরেও মেলেনি কোনো আসন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এরশাদ-পরবর্তী সময়ে দলে বিভক্তির পাশাপাশি ভুল নীতি ও আদর্শের কারণেই জাপার এ হাল। রাজনীতির মাঠে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন দ্রুত সঠিক নীতিগত অবস্থান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই অবস্থা বাকি ৬টি আসনেও। এর মধ্যে রংপুর-৬ এ জাপার পক্ষে পড়েছে মাত্র ১ হাজার ২৮৭টি ভোট।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার নির্বাচনে রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার-৭ আসনে কখনই হারেনি জাতীয় পার্টি। এবারের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের ২৯টিতেই হেরেছে দলটির প্রার্থীরা।
স্থানীয় একজন বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকতে আমাদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। আরেকজন বলেন, তাদের ধারণা ছিল, জাতীয় পার্টি–লাঙ্গল হলেই মানুষ অন্ধের মতো তাদের ভোট দেবে, কিন্তু সেটা মানুষ ভুলে গেছে।
নেতাদের দাবি, ভিন্ন পরিস্থিতিতে চাপের মুখে দল। এছাড়া ভোট নিয়েও তাদের নানা অভিযোগ।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আমাদের ওপর প্রথম থেকেই একটা অত্যাচার–অনাচার চলছে। দোসর ট্যাগ দিয়ে নির্বাচন আসতে না দেওয়ার চেষ্টা, আমাদের মিছিল–মিটিং করতে দেওয়া হচ্ছিল না, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হচ্ছিল না।
তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করছেন, বিতর্কিত নির্বাচনে বৈধতা দেয়া এবং আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তির কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জাপা। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলটির তৃণমূল পর্যায় থেকে পুনর্গঠন, তরুণ নেতৃত্ব ও আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, জাতীয় পার্টি মানুষের মনে আসলেন ছিল না। তারা কারসাজি করে এই আসনটা ধরে রেখেছিল।
নির্বাচন বিশ্লেষক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে গেল, লুপ্ত হলো– এটা আমরা বলছি না। জাতীয় পার্টি এখন যে অবস্থায় পৌঁছেছে এর জন্য জাতীয় পার্টি নিজেই দায়ী।
এবারের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র শূণ্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে জাতীয় পার্টি।



