প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৩, ০৬:১৪ পিএমআপডেট : ১০ জুন ২০২৩, ১০:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দলের কিছু নেতাকর্মীর কারণে দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় জিএম কাদের বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের বিশ্বাস করেনা। তারা মনে করছে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় নিতে আমরা নাটক করছি। কারণ, আমাদের কিছু মানুষ দুই নৌকায় পা দিয়ে আছে। আমাদের ভয় দেখাচ্ছে, আমাদের লাঙল নিয়ে যাবে, আমার চেয়ারম্যান পদ কেড়ে নেয়া হবে।
‘আমরা লাঙল বা চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার জন্য লালায়িত নই। মানুষের অন্তরে আমরা স্থান করে নিতে চাই। কে কি করলো, কি করবে তাতে আমরা ভিত নই। একক হলেও আমি দেশের মানুষের সাথে থাকবো। দল নিয়ে বেচাকেনা করতে দেয়া হবে না। যারা জাতীয় পার্টিতে থেকে আরেক দলের কথা বলেন তাহলে সেই দলে চলে যেতে পারেন। নেতা-কর্মীদের এত ত্যাগ অথচ কয়েকজন মানুষের জন্য আমরা দালাল পার্টি হিসেবে পরিচিত হচ্ছি। যারা দালালী করবেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
২০১৯ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন তার ভাই জিএম কাদের। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন ও পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন জিএম কাদের।
ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘ দিনের সখ্যতা রয়েছে জাতীয় পার্টির। ৯০ এর দশকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করেছে দলটি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে জাতীয় পার্টির সহায়তা নেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১৪৬ টি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি এবং বিএনপির আসন ছিলো ১১৬ টি।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামাত এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জোট গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ভোটের ঠিক আগ মুহুর্তে জোট ছেড়ে বেড়িয়ে যায় দলটি। তবে দল ভেঙে একটি অংশ বিজেপি নামে থেকে যায় সেই জোটের সাথে।
২০০৭ সালে জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম ও এলডিপির সাথে জাতীয় পার্টিকেও জোটে নেয় আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই জোট টেকেনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বাদ পড়ে এলডিপি ও গণফোরাম। সে সময় জোটে জাতীয় পার্টিই ছিলো আওয়ামী লীগের মুল শরিক।
সেই নির্বাচনে মহাজোটের কাছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কোনো পাত্তাই পায় নি। নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এই জোট।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালে আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেয়া আসনে ভোট করে জাতীয় পাটি। নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসেবেও মর্যাদা পায় দলটি। বিরোধী দলে থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সেই সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে সে সময় দলটিকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
এরপর বহুবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত জোটে থেকে যায়। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সাথে অনেকটা সমঝোতা করেই নির্বাচনে আসে তারা। এই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ২২ টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের স্থান ধরে রাখে জাতীয় পার্টি। ‘সবার অজান্তে দেশ শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছে’
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে শ্রীলংকার ছায়া দেখছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তার দাবি, ‘সবার অজান্তেই বাংলাদেশ এখন শ্রীলংকা হয়ে গেছে।’
জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, দেশ শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে। তখন শ্রীলংকা তেল ও কয়লা কিনতে পারেনি। বিদ্যুত কেন্দ্র চালাতে পারেনি। আমদানী করতে পারেনি। কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তাদের জিনিস-পত্রের দাম হু হু করে বেড়েছিলো। ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। আমরা শ্রীলংকাকে দেউলীয়া বলেছিলাম।
‘তখন সারাবিশ্বের মতই আমরা শ্রীলংকা নিয়ে চিন্তিত হয়েছিলাম। এখন তো আমাদের অবস্থাও তাই। বিদ্যুত নেই, জিনিস-পত্রের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চেয়ে অনেক কম। এখন শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশে পণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি। সবার আয় কমে গেছে। জিনিস-পত্রের দাম বেড়েই চলছে, এটাই শ্রীলংকা।’
সরকারের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সরকার বলে, ঋণ পরিশোধে আমরা ব্যর্থ হয়নি। যদি আপনারা ব্যর্থ না হন, তাহলে আন্তর্জাতিক সংস্থা মুডিস কেন বলে বাংলাদেশে ঋণ দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বাকিতে মালামাল কিনে সরকার দেশের মানুষের মাথায় বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
‘শ্রীলংকা আর আমাদের মধ্যে তফাত হচ্ছে, শ্রীলংকার মানুষ দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। শ্রীলংকার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নামেনি, বিক্ষোভ করেনি। কারণ, শ্রীলংকার পুলিশ আন্দোলনকারীদের গুম করেনি, লাঠিচার্জ করেনি এবং গুলিও করেনি। সে দেশের পুলিশ আন্দোলনকারীদের দেশের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নামেনি দুটি কারণে, তারা জানেনা দেশ শ্রীলংকা হয়ে গেছে। আর রাস্তায় নামলে তাদের কী হবে তা কেউ জানে না। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলে জনগণ বাঁচতে পারবে কিনা, ব্যবসা নিয়ে টিকতে পারবে কিনা এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে শংকিত সবাই। আন্দোলন করলে তাদের ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে ভিত হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ।
‘আমরা কি বৃটিশ আমলে আছি? পাকিস্তান আমলে আছি? আমাদের টাকায় বন্দুক কিনে পুলিশ আমাদের বুকে গুলি চালায়। শ্রীলংকার সাথে আমাদের পার্থক্য একটাই শ্রীলংকার মত জনগণ মঠে নামেনি, কারন আন্দোলন করলে জবাই করার জন্য পুলিশ রেডি হয়ে আছে। আমরা দেশকে শ্রীলংকা হতে দেবো না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলটির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন...
সরকার পরিচালনার অংশ হতে চান বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী শরিক দলগুলোর নেতারা। সরকার গঠনের ৫ মাস পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন তারা। সরকারের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায়...
ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এতে দাবি করা হয়েছে, দলের পক্ষ থেকে প্রকৃত ঘটনা...
আগামী বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালনে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—হাব। এবার সাধারণ প্যাকেজে খরচ ৪ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা। সোদি...
সারা দেশে উদ্বেকজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তার ঘটাচ্ছে এডিস মশাবাহিত এই রোগ। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দলটির এক সংবাদ...
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১১তম রাতের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
আমাদের কিছু মানুষের পা দুই নৌকায়: জিএম কাদের
এ সময় জিএম কাদের বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের বিশ্বাস করেনা। তারা মনে করছে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় নিতে আমরা নাটক করছি। কারণ, আমাদের কিছু মানুষ দুই নৌকায় পা দিয়ে আছে। আমাদের ভয় দেখাচ্ছে, আমাদের লাঙল নিয়ে যাবে, আমার চেয়ারম্যান পদ কেড়ে নেয়া হবে।
‘আমরা লাঙল বা চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার জন্য লালায়িত নই। মানুষের অন্তরে আমরা স্থান করে নিতে চাই। কে কি করলো, কি করবে তাতে আমরা ভিত নই। একক হলেও আমি দেশের মানুষের সাথে থাকবো। দল নিয়ে বেচাকেনা করতে দেয়া হবে না। যারা জাতীয় পার্টিতে থেকে আরেক দলের কথা বলেন তাহলে সেই দলে চলে যেতে পারেন। নেতা-কর্মীদের এত ত্যাগ অথচ কয়েকজন মানুষের জন্য আমরা দালাল পার্টি হিসেবে পরিচিত হচ্ছি। যারা দালালী করবেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
২০১৯ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন তার ভাই জিএম কাদের। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন ও পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন জিএম কাদের।
ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘ দিনের সখ্যতা রয়েছে জাতীয় পার্টির। ৯০ এর দশকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করেছে দলটি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে জাতীয় পার্টির সহায়তা নেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১৪৬ টি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি এবং বিএনপির আসন ছিলো ১১৬ টি।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামাত এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জোট গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ভোটের ঠিক আগ মুহুর্তে জোট ছেড়ে বেড়িয়ে যায় দলটি। তবে দল ভেঙে একটি অংশ বিজেপি নামে থেকে যায় সেই জোটের সাথে।
২০০৭ সালে জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম ও এলডিপির সাথে জাতীয় পার্টিকেও জোটে নেয় আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই জোট টেকেনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বাদ পড়ে এলডিপি ও গণফোরাম। সে সময় জোটে জাতীয় পার্টিই ছিলো আওয়ামী লীগের মুল শরিক।
সেই নির্বাচনে মহাজোটের কাছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কোনো পাত্তাই পায় নি। নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এই জোট।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালে আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেয়া আসনে ভোট করে জাতীয় পাটি। নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসেবেও মর্যাদা পায় দলটি। বিরোধী দলে থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সেই সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে সে সময় দলটিকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
এরপর বহুবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত জোটে থেকে যায়। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সাথে অনেকটা সমঝোতা করেই নির্বাচনে আসে তারা। এই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ২২ টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের স্থান ধরে রাখে জাতীয় পার্টি।
‘সবার অজান্তে দেশ শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছে’
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে শ্রীলংকার ছায়া দেখছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তার দাবি, ‘সবার অজান্তেই বাংলাদেশ এখন শ্রীলংকা হয়ে গেছে।’
জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, দেশ শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে। তখন শ্রীলংকা তেল ও কয়লা কিনতে পারেনি। বিদ্যুত কেন্দ্র চালাতে পারেনি। আমদানী করতে পারেনি। কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তাদের জিনিস-পত্রের দাম হু হু করে বেড়েছিলো। ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। আমরা শ্রীলংকাকে দেউলীয়া বলেছিলাম।
‘তখন সারাবিশ্বের মতই আমরা শ্রীলংকা নিয়ে চিন্তিত হয়েছিলাম। এখন তো আমাদের অবস্থাও তাই। বিদ্যুত নেই, জিনিস-পত্রের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চেয়ে অনেক কম। এখন শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশে পণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি। সবার আয় কমে গেছে। জিনিস-পত্রের দাম বেড়েই চলছে, এটাই শ্রীলংকা।’
সরকারের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সরকার বলে, ঋণ পরিশোধে আমরা ব্যর্থ হয়নি। যদি আপনারা ব্যর্থ না হন, তাহলে আন্তর্জাতিক সংস্থা মুডিস কেন বলে বাংলাদেশে ঋণ দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বাকিতে মালামাল কিনে সরকার দেশের মানুষের মাথায় বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
‘শ্রীলংকা আর আমাদের মধ্যে তফাত হচ্ছে, শ্রীলংকার মানুষ দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। শ্রীলংকার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নামেনি, বিক্ষোভ করেনি। কারণ, শ্রীলংকার পুলিশ আন্দোলনকারীদের গুম করেনি, লাঠিচার্জ করেনি এবং গুলিও করেনি। সে দেশের পুলিশ আন্দোলনকারীদের দেশের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নামেনি দুটি কারণে, তারা জানেনা দেশ শ্রীলংকা হয়ে গেছে। আর রাস্তায় নামলে তাদের কী হবে তা কেউ জানে না। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলে জনগণ বাঁচতে পারবে কিনা, ব্যবসা নিয়ে টিকতে পারবে কিনা এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে শংকিত সবাই। আন্দোলন করলে তাদের ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে ভিত হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ।
‘আমরা কি বৃটিশ আমলে আছি? পাকিস্তান আমলে আছি? আমাদের টাকায় বন্দুক কিনে পুলিশ আমাদের বুকে গুলি চালায়। শ্রীলংকার সাথে আমাদের পার্থক্য একটাই শ্রীলংকার মত জনগণ মঠে নামেনি, কারন আন্দোলন করলে জবাই করার জন্য পুলিশ রেডি হয়ে আছে। আমরা দেশকে শ্রীলংকা হতে দেবো না।’