মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের কাছ থেকে ক্লাউড সেবা নিতে আলোচনা করছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য এই চুক্তির অধীনে ওরাকল মেটাকে কম্পিউটিং সক্ষমতা সরবরাহ করবে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয় সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুসারে, এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য মেটা ওরাকলের কাছ থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা নিতে চাইছে। তাঁদের লক্ষ্য, ক্লাউড প্রযুক্তিতে নিজেদের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানো। উল্লেখ্য, অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা নিয়ে থাকে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান।
বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চাহিদা মেটাতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের কম্পিউটেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে। এ খাতে তাই বিনিয়োগও হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের চেয়ে ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্লাউড সেবা নেওয়া অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। এ কারণেই এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছে।
মেটাও ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কম্পিউটেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং এই প্রেক্ষাপটেই তাঁরা ওরাকলের সাথে ২০ বিলয়ন ডলারের সেবা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অংকটা ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। উল্লেখ্য, সম্ভাব্য এই চুক্তি বিষয়ে এখনও অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি মেটা ও ওরাকলের কেউই।
সাম্প্রতিক সময়ে ওরাকল বেশ কয়েকটি বড় অংকের ক্লাউড চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের সাথে। চলতি মাসেই চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই’র সাথে ৫ বছর মেয়াদি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে ওরাকল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাউড চুক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওপেনএআই এছাড়াও অ্যামাজন, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফটের সাথে চুক্তি রয়েছে ওরাকলের। ফলে নিজস্ব সিস্টেমের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ওরাকলের ক্লাউড পরিকাঠামো ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ক্লাউড চুক্তি থেকে তাঁদের আয় বেড়েছে ১৬ গুণেরও বেশি। গত সপ্তাহেই ৪টি বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পাদনের কথাও জানিয়েছে ওরাকল।
ওরাকল গ্রাহকদেরকে সমন্বিত ক্লাউড সেবা প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে ডেটাবেস, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সফটওয়্যারগুলো একটি সমন্বিত সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ওরাকলের ক্লাউড প্রযুক্তিকে গ্রাহকরা নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে পুরো পরিষেবাটি অনলাইনে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। আবার একটি অংশকে গ্রাহকের সার্ভারে রেখে বাকিটা ক্লাউডে ব্যবহার করার হাইব্রিড মডেলও অনুসরণ করা যায়। অর্থাৎ, ওরাকলের ক্লাউড প্রযুক্তিকে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারনে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স


যে কারণে ১ লাখ কোটি ডলারের পথে ওরাকল
