আগামী ১২ আগস্ট আকাশে ঘটতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিষয়টি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ নেই। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে মহাকাশপ্রেমীরা এটি দেখতে পাবেন।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বলয় গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এর পাশাপাশি পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যাবে।
এ ছাড়া উত্তর গোলার্ধের বহু অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে যখন সূর্য ডুববে, তখনো গ্রহণ থাকবে; ফলে সেখানে একটি বিরল ‘সূর্যাস্ত সূর্যগ্রহণ’ দেখার সুযোগ মিলবে।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কী?
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তখন ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় এবং সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এ সময় দিনের বেলাতেও চারপাশ অন্ধকারের মতো হয়ে যায়—যেন হঠাৎ ভোর বা গোধূলি নেমে এসেছে। তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায় এবং স্পষ্ট হয়ে ওঠে আকাশের তারা কিংবা গ্রহগুলো।
নাসা জানায়, এটি একটি অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক কাকতালীয় ঘটনা। সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড় এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থিত। এই দূরত্বের ভারসাম্যের কারণেই পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যকে প্রায় একই আকারের মনে হয়।
বাংলাদেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ না দেখতে পাওয়ার প্রধান কারণ হলো সময়ের পার্থক্য। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণটি শুরু হবে ১২ আগস্ট রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৩ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটে। মূলত রাতের কারণেই বাংলাদেশ, ভারতসহ উপমহাদেশের কোনো স্থান থেকেই এই গ্রহণ দেখা যাবে না।



