প্রয়োজনের সময় জরুরি ডিভাইসটির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার বিপত্তিতে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আগে, কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগ মুহুর্তে স্মার্টফোনের ব্যাটারি যখন জানান দেয়- তার ফুয়েল ফুরিয়ে আসছে, তখন বিরক্তির চেয়েও বেশি অসহায় বোধ করে থাকবেন অনেকে।
সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক। কিন্তু তাতে আছে পাওয়ার ব্যাংক বহন করার ঝক্কি। অর্থাৎ, মূল ডিভাইসটির পাওয়ার সাল্পাই অব্যাহত রাখতে সাথে নিতে হবে আরেকটি ডিভাইস। এই প্রেক্ষাপটে আরও কার্যকর এক সমাধান হতে পারে রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি।
রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি কী?
দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসকে প্রয়োজনের সময় সচল রাখার সহজ ও কার্যকর একটি মাধ্যম হচ্ছে রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একটি ডিভাইস থেকে অন্য একটি ডিভাইসে পাওয়ার (বা ইলেকট্রিক্যাল চার্জ) স্থানান্তর করা যায়।
অর্থাৎ, স্মার্টফোনের মতো একটি ডিভাইসে সঞ্চিত পাওয়ার থেকে অন্য একটি ডিভাইসে (যেমন ওয়্যারলেস ইয়ারবাডস) পাওয়ার (বা ইলেকট্রিক্যাল চার্জ) স্থানান্তর করার সক্ষমতাই হচ্ছে রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি। উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে, একজন আইফোন ব্যবহারকারী রিভার্স প্রযুক্তির সাহায্যে তার ফোনে সঞ্চিত চার্জ দিয়ে নিজের এয়ারপডকে সচল রাখতে পারে।
এভাবে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাওয়ার বা বৈদ্যুতিক চার্জ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো চার্জার, ওয়াল আউটলেট বা পাওয়ার ব্যাংকের প্রয়োজন পড়ে না। এটি ইউএসবি-সি চার্জিং ক্যাবলের মাধ্যমে হতে পারে, আবার কোনো প্রকার তারের ব্যবহার ছাড়াও (ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে) হতে পারে।
শুধুই কি স্মার্টফোনের জন্য?
রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হচ্ছে যে, এটি কেবলমাত্র স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিষয়টি আসলে তা নয়। পোর্টেবল যেকোনো ডিভাইসে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। এই যেমন, ইউএসবি-সি চার্জিং ক্যাবলের মাধ্যমে ল্যাপটপ থেকে একটি স্মার্টফোনকে রিচার্জ করা যাবে, আবার ওয়্যারলেস ইয়ারবাডসও সচল রাখা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, আইফোনের মতো ডিভাইস দিয়ে এমনকি পোর্টেবল স্পিকারও রিচার্জ করা যায়।
কিছু কিছু উন্নতমানের ব্লুটুথ স্পিকারে বিল্ট-ইন পাওয়ার ব্যাংক থাকে যেটা ব্যবহার করে অন্যান্য ছোট ছোট ডিভাইসে চার্জ দেওয়া যায়। আর যেসব স্পিকারে পাওয়ার ব্যাংক নেই সেগুলো বৈদ্যুতিক চার্জের জন্য স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে বড় অবদান স্যামসাংয়ের। কয়েক বছর আগে নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি স্মার্টফোনে পাওয়ারশেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আসে সাউথ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। পাওয়ারশেয়ার প্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবহারকারীরা গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের পেছন দিকে বা ব্যাকসাইডে অন্য একটি ডিভাইস (যেমন ওয়্যারলেস ইয়ারবাডস) রেখে ডিভাইসটিকে রিচার্জ করে নিতে পারে।
এভাবে পাওয়ারশেয়ার প্রযুক্তির সাহায্যে গ্যালাক্সি স্মার্টফোন দিয়ে স্যামসাংয়ের স্মার্টওয়াচ ও ওয়্যারলেস ইয়ারবাডসের মতো ডিভাইস রিচার্জ করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের ডিভাইসেও (যেমন আইফোন, এয়ারপড) পাওয়ার বা বৈদ্যুতিক চার্জ স্থানান্তর করা যাবে।
উল্লেখ্য, গুগল, হুয়াওয়ে ও শাওমি’র মতো স্মার্টফোন নির্মাতারা বর্তমানে তাঁদের ফোনে এই রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি অফার করে থাকে। ফলে স্মার্টফোনে পর্যাপ্ত চার্জ থাকলে স্মার্টওয়াচ বা ইয়ারবাডসের চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দিন বোধহয় শেষ হয়ে এল।
তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল



