আসছে নতুন যুগের বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ি। জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ বেঞ্জ তাদের আসন্ন সি-ক্লাস ইভি মডেলে এমন এক পরিবর্তন আনছে, যা গাড়ির ভেতরের ড্যাশবোর্ডের পুরো ধারণাই বদলে দিতে পারে। এই গাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৩৯.১ ইঞ্চির এক বিশাল স্ক্রিন, যা পুরো ড্যাশবোর্ডজুড়ে বিস্তৃত থাকবে।
গাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ এপ্রিল উন্মোচনের আগে থেকেই এর ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুরো ড্যাশবোর্ডজুড়ে বড় স্ক্রিন
নতুন এই সি-ক্লাস ইভিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘এমবিইউএক্স হাইপারস্ক্রিন’। যা এক টুকরো কাঁচের নিচে তিনটি বড় ডিসপ্লে একসঙ্গে যুক্ত করে তৈরি। এতে চালকের সামনে ডিজিটাল স্পিডোমিটার, মাঝখানে ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং যাত্রীর জন্য আলাদা স্ক্রিন থাকবে।
এর পাশাপাশি কোম্পানি আরও একটি ‘সুপারস্ক্রিন’ অপশনও দিচ্ছে, যেখানে আলাদা তিনটি ডিসপ্লে থাকলেও তা একসঙ্গে একটি ইউনিটের মতো দেখা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে গাড়ির ভেতরে প্রায় সব নিয়ন্ত্রণ এখন টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে করতে হবে। ফলে বোতামের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে।
শুধু স্ক্রিন নয়, প্রযুক্তির নতুন অভিজ্ঞতা
এই বিশাল স্ক্রিন ছাড়াও গাড়ির ভেতরে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক নানা প্রযুক্তি। পুরো ছাদজুড়ে আছে প্যানোরামিক গ্লাস রুফ, যেখানে ১৬২টি ছোট লাইট এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। রাতে এটি আলাদা একটি পরিবেশ তৈরি করবে।
সিটগুলোতে থাকবে ভেন্টিলেশন, ম্যাসাজ এবং মেমোরি ফাংশন, যা দীর্ঘ ভ্রমণে আরাম দেবে। পাশাপাশি উন্নত লাম্বার সাপোর্টও যুক্ত করা হয়েছে। গাড়ির ভেতরের শব্দ কমাতে বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে এবং ক্লাইমেট কন্ট্রোল সিস্টেমকেও আরও উন্নত ও শক্তি সাশ্রয়ী করা হয়েছে।
দেশের বাজারে এখন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু ইঞ্জিন বা রেঞ্জ নয়। ভেতরের প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা রাখছে। এই কারণে বড় স্ক্রিন ও ডিজিটাল ফিচারযুক্ত গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে টাচ-নির্ভর সিস্টেম কিছু ক্ষেত্রে ব্যস্ত শহরের ট্রাফিকে ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।
তবুও প্রিমিয়াম গাড়ির বাজারে ক্রেতারা এখন ‘স্মার্ট কেবিন’ অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সি-ক্লাস ইভি সেই দিকেই একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভবিষ্যতের গাড়ি আর শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়। এটি হয়ে উঠছে একটি ডিজিটাল অভিজ্ঞতার প্ল্যাটফর্ম।



