নিউজিল্যান্ড এখনো ৪৪ রান পিছিয়ে, তাদের হাতে আছে আর দুই উইকেট। সিলেটের পিচে বল প্রথম দিন থেকেই যেভাবে টার্ন পাচ্ছে, তাতে চতুর্থ ইনিংসে এই পিচে ব্যাটিং কতটা কঠিন হতে পারে, তা কিছুটা অনুমান করে নেওয়া যায়। সে হিসেবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যত বেশি সম্ভব লিড নিতে চাইবে, আগামীকাল তৃতীয় দিনে যত দ্রুত সম্ভব নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ করতে চাইবে। সে পরিকল্পনার দিক থেকে দেখলে, আলোকস্বল্পতায় খেলা আগেভাগে শেষ হওয়া দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ কিছুটা স্বস্তিতেই থাকবে।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের অস্বস্তি শুধু একটি - কার্যত দুটি। বাংলাদেশ দল যে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের দুটি ক্যাচ ছেড়েছে। উইলিয়ামসন শেষ পর্যন্ত দিনের শেষবেলায়, দ্বিতীয় নতুন বলে প্রথম ওভারে আউট হয়েছেন, তবে তার আগে টানা চতুর্থ টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে টেস্টে উইলিয়ামসনের ২৯তম সেঞ্চুরিটি না হলে আজই নিউজিল্যান্ড অলআউট হয়ে যেত কি না, বাংলাদেশ ভালো একটা লিড পেয়ে যেত কি না সে আলোচনা উঠতেই পারে।
নাঈম হাসানের বলে দুইবার উইলিয়ামসনের ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা - ৬৩ রানে তাইজুল, ৭০ রানে শরীফুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত উইলিয়ামসন করেছেন ১০৪ রান, দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে ৩১০ রানে অলআউট করে দেওয়া নিউজিল্যান্ড দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে। উইলিয়ামসনকে ফেরানো তাইজুলই বাংলাদেশের সেরা বোলার, নিয়েছেন ৪ উইকেট।
আগের দিন ৯ উইকেটে ৩১০ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ, আজ কোনো রান হওয়ার আগেই দিনের প্রথম বলেই বাংলাদেশের ইনিংসের হিসাব চুকেবুকে গেল। এরপর নিউজিল্যান্ড শুরুতে ওভার দশেক গুছিয়ে নিলেও ১৩তম ওভারে দলীয় ৩৬ রানে ল্যাথামকে (৪৪ বলে ২১) ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তাইজুল। তিন ওভারের মধ্যে আরেক ওপেনার ডেভন কনওয়েও (৪০ বলে ১২) আউট। এরপর শুরু কেইন উইলিয়ামসনের রাজত্ব, আর তাঁকে ঘিরে নিউজিল্যান্ডের বাকি ব্যাটসম্যানদের জুটি গড়া।
হেনরি নিকোলসের (১৯) সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে উইলিয়ামসন গড়লেন ৫৪ রানের জুটি, চতুর্থ উইকেটে ড্যারিল মিচেলের (৪১) সঙ্গে জুটি হলো ৬৬ রানের। সে পথে উইলিয়ামসন ফিফটিতেও পৌঁছে গেছেন (৭৫ বলে, ৬ চারে)।
শরীফুল এসে নিকোলসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছিলেন, তারপর ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকা মিচেল আউট হলেন তাইজুলের বলে স্টাম্পড হয়ে। টম ব্লান্ডেল অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি। চা বিরতি থেকে ফিরেই নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারাল ১৭৫ রানে। বাংলাদেশের লিড নেওয়ার আশা ততক্ষণে জোরাল, কিন্তু উইলিয়ামসন যে তখনো অনড়!
ষষ্ঠ উইকেটে গ্লেন ফিলিপসের (৪২) সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি উইলিয়ামসনের, ৭৮ রানের সেই জুটি এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ! জুটি ভাঙছে না দেখে মুমিনুলের হাতে বল ধরিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক শান্ত, তাতেই কাজ হয়েছে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে মুমিনুল স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ বানালেন ফিলিপসকে। ৭৫তম ওভারের শেষ বলে ২৫৩ রানে পড়ল নিউজিল্যান্ডের ষষ্ঠ উইকেট। শেষ বিকেলে এরপরই নিউজিল্যান্ড দ্রুত উইকেট হারাতে শুরু করে।
৮০তম ওভার পেরোতেই দ্বিতীয় নতুন বল নিতে আর দেরি করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। তার সুফল পেতে সময় লাগল পাঁচ বল। বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আজকের দিনে সম্ভবত আর হতে পারত না। তাইজুল নতুন বলে করলেন আর্ম বল, সোজাসুজি ছোটা বলটা উইলিয়ামসনের ব্যাট আর প্যাডের ফাঁক গলে ঢুকে গেল স্টাম্পে!
দুই ওভার পর ইশ সোধিও ফিরলেন। বাংলাদেশ তখন দ্বিতীয় দিনেই নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করে দেওয়ার আশায়, কিন্তু সিলেটে ততক্ষণে আঁধার নামি নামি। কিছুক্ষণ পর আম্পায়ারের লাইট মিটার জানাল, আর খেলা চালানো সম্ভব নয়।



