গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। সুপার ফোরের চার দলের নাম আগেই নিশ্চিত হওয়ায় ভারত-ওমানের ম্যাচটি ছিল স্রেফ নিয়ম রক্ষার। এ ম্যাচে যে ভারত জিতবে, সেটা তো অনুমিতই ছিল। কিন্তু ওমান হারলেও ভারতের যে ধরনের পরীক্ষা নিয়েছে, সেটাই বরং চমকে দেওয়ার মতো। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানও সেটা পারেনি ভারতের বিপক্ষে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান তুলেছিল ভারত। রান তাড়ায় পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে মোটে ৪ উইকেট হারিয়েছে ওমান। হার্দিক পান্ডিয়া-আর্শদ্বীপ সিং-হারশিত রানাদের বোলিং সামলে ১৬৭ রান তুলেছে আইসিসির সদস্য দেশটি। ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ওমান ম্যাচটা হেরেছে মোটে ২১ রানে।
এবার পাকিস্তান-ভারত ম্যাচটার প্রসঙ্গে আসা যাক। আইসিসি বা এসিসির যেকোনো ইভেন্ট শুরু হলেই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে আলোচনার কমতি থাকে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রায় সব ম্যাচই হয়েছে একপেশে। এবারের এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটার দিকেই তাকানো যাক। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান মোটে ১২৭ রান তুলেছিল। সেটাও ৯ উইকেট হারিয়ে। ভাগ্যিস শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৬ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও দিয়েছিলেন বলে রানরেট ৬ পেরিয়েছিল।
পাকিস্তানের এ রান অনায়াসেই টপকে যায় ভারত। আভিষেক শার্মা-সুরিয়াকুমার ইয়াদভরা ইনিংসের ২৫ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচটা জিতে নেয়।
এবার গতকালের ম্যাচটার দিকে আসা যাক। পাকিস্তানের যে বোলিং লাইন আপ ভারতের মোটে ৩ উইকেট নিতে পেরেছিল, সেখানে ভারতের ৮ উইকেট শিকার করেছেন ওমানের আমির কালিম, জিতেন রামানানদি, শাহ ফয়সালরা।
ভারতের রান ৬ হতেই ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার শুভমান গিলকে (৫) ড্রেসিংরুমে ফেরান শাহ ফয়সাল। তবে আভিষেক-স্যামজন জুটিতে ৬৬ রান পায় ভারত। ইনিংসের অষ্টম ওভারে দলকে ৭২ রানে রেখে বিদায় নেন ১৫ বলে ৩৮ রান করা আভিষেক। দলের রান এক বাড়তেই রানআউট হয়ে ফিরে যান পান্ডিয়া (১)।
স্যামসন (৪৫ বলে ৫৬ রান) কিছুটা দেখে খেললেও শেষদিকে আকশার প্যাটেল (১৩ বলে ২৬), তিলক ভার্মা (১৮ বলে ২৯) ও হারশিত রানারা রানের গতি বাড়িয়ে দেন। এরপরও ১৯০ এর নিচেই আটকে যায় ভারত।
ওমান সবচেয়ে বড় চমকটা দেখিয়েছে রান তাড়ায়। পাওয়ার-প্লে তে বিনা উইকেটে ৪৪ রান তোলা দলটির উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ইনিংসের ৯ম ওভারে, তখন ওমানের স্কোরবোর্ডে ৫৬ রান। ওপেনার জাতিনদার সিং বিদায় নেন ওয়ানডে সুলভ ৩৩ বলে ৩২ রান করে।
এরপর কালিম-হামমাদ মিরজার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচে টিকে থাকে ওমান। দুজনে মিলে ৫৫ বলে ৯৩ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। দলকে ১৪৯ রানে রেখে কালিম (৪৬ বলে ৬৪) বিদায় নিলেন, তখন জয়ের জন্য ১৪ বলে ৪০ রান দরকার ওমানের। হামমাদ মিরজা (৩৩ বলে অপরাজিত ৫১) ও শেষ দিকে জিতেন রামানানদি চেষ্টা চালালেও জয় থেকে ২১ রান থামে ওমানের ইনিংস।
ওমান ম্যাচটা হারলেও ভারতের বিপক্ষে স্নায়ুচাপ সামলে যেভাবে পুরো ম্যাচ লড়াই করে গেছে, চলতি এশিয়া কাপে সুরিয়া কুমারদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি আর কেউ!



