গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইন্টার মায়ামি ও লিওনেল মেসির হোয়াইট হাউজে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক কম হচ্ছে না। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে মেসির অভিব্যক্তি ও হাততালি দেওয়া নিয়েই যত বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও ইন্টার মায়ামি কোচ পরে জানিয়েছেন, ওই সম্মাননা অনুষ্ঠানে যে খেলার বাইরে অন্য বিষয়ে বক্তব্য দেবেন ট্রাম্প, সেটা তারা জানতেন না। এরপরও ফুটবলারটার নাম মেসি বলে বিতর্ক কম হচ্ছে না।
সেই বিতর্ক চলমান থাকতেই গতকাল শনিবার রাতে এমএলএসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটায় যথারীতি মায়ামির ত্রাণকর্তা রূপে হাজির হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির এক গোলের সঙ্গে মায়ামির অন্য গোলটিও করেছেন আরেক আর্জেন্টাইন- রদ্রিগো দে পল।
বাল্টিমোরের কানায় কানায় পূর্ণ এম অ্যান্ড টি ব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে গতকাল ম্যাচের ১৭ মিনিটে দে পলের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। ২৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। আর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে একটি গোল ফিরিয়ে দেন ডিসি ইউনাইটেড স্ট্রাইকার তাই বারিবো। তাতে পূর্ণাঙ্গ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
গতকালের ম্যাচে মূল ব্যবধান গড়ে দিয়েছে মেসির গোলটাই। আর মেসিকে নিয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, সেটা বজায় ছিল গতকালও। আর দর্শক উন্মাদনার কথা বিবেচনা করে ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হয় বাল্টিমোরে। সেখানে মায়ামি-ডিসি ইউনাইটেডের ম্যাচটা দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ৭২ হাজার ২৬ জন দর্শক, যা এম অ্যান্ড টি ব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড।
এর আগে ডি ইউনাইটেডের ঘরের মাঠের ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড ছিল ৫৭ হাজার ৪৩১ জন। ১৯৯৭ সালের এমএলএস কাপের ফাইনালের সেই দর্শক উপস্থিতির রেকডর্টা গতকাল ভেঙে দিল লিগ পর্বের একটা ম্যাচ। আর এই বিপুলসংখ্যক দর্শক যে শুধু মেসির কারণেই গেছেন, সেটা বোধহয় আলাদা করে না বললেও চলে।
গতকালের গোলে ক্যারিয়ারে আরেকটা মাইলফলকের খুব কাছে চলে গেছেন মেসি। আর মাত্র একটা গোল করলেই পেশাদার ক্যারিয়ারে ৯০০ গোল হয়ে যাবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ কীর্তিতে নাম লেখাবেন মেসি। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ১১৪০ ম্যাচে ৮৯৯ গোল করা মেসি বার্সার জার্সিতে করেছেন ৬৭২ গোল। মাঝে ফরাসি ক্লাব পারি সাঁ জার্মেইয়ের হয়ে ৩২ গোল করার পর নাম ২০২৩ সালে নাম লেখান ইন্টার মায়ামিতে। সেই থেকে ফ্লোরিডার ক্লাবটির হয়ে ৯১ ম্যাচে ৮০ গোল করলেন তিনি। এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে মেসি গোল করেছেন ১১৫টি।
গোলের মাইলফলকের সামনে থাকা মেসি কয়েকদিন আগে অ্যাসিস্টেও একটা কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে ৪০০ অ্যাসিস্টের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মেসি। বর্তমানে তাঁর নামের পাশে অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৪০৭।
মেসিময় আরেকটা রাতে মায়ামিও পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে। এবারের এমএলএসে প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল মায়ামি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে পরের দুটি ম্যাচই জিতল দলটি। তাতে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ফ্লোরিডার ক্লাবটির। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সবার ওপরে নিউ ইয়র্ক সিটি।


‘ট্রাম্প যখন ইরানকে পরাজিত করার পরিকল্পনার কথা বলেন, মেসি তখন হাততালি দেন’
