কয়েকদিন আগে খবর বের হয়েছিল, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় ফিফার সদস্যভুক্ত ২০০ এর বেশি দেশ। কিন্তু সেই খবর প্রকাশের এক সপ্তাহ না পেরোতেই দুঃসংবাদ পেয়েছেন ইনফান্তিনো। এবার ফিফা থেকে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
ইনফান্তিনোর অধীনে ফুটবল শিল্প ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন লা লিগা সভাপতি। একই সঙ্গে ফিফা যে আগামী বিশ্বকাপ ৬৪ দলের করার কথা ভাবছে, সেই পরিকল্পনারও সমালোচনা করেন তিনি।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম লা গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো মানে নেই। বিশ্বকাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হলেও এটাই ফুটবলের একমাত্র শিল্প নয়। সবকিছু শুধু বিশ্বকাপকে ঘিরে হতে পারে না। এই খেলাটাকে মূলত টিকিয়ে রাখে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো।’
তেবাস বোঝাতে চাইলেন, লা লিগা, প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন দেশের যে লিগগুলো আয়োজিত হয়, এসবের কারণেই টিকে থাকে ফুটবল। কিন্তু বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ফিফা সেই সিস্টেমকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে লা লিগা সভাপতি বলেন, ‘তারা (ফিফা) ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে। যে শিল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়, সেটিকে তারা এমন একটি আয়োজনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা মাত্র ৪০ দিন চলে এবং যেখানে খেলোয়াড়দের একটি ছোট অংশই অংশ নেয়।’
তেবাস যোগ করেন, ‘আমাদের প্রয়োজন কম জাতীয় দল এবং জাতীয় ফুটবলের সব স্তরে আরও সুরক্ষা। তারা বিষয়টি বুঝতে পারছে না; তারা দায়িত্বহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে ২৪ দলের পরিবর্তে ৩২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজিত হতো। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ এ নিয়ে গেছে ফিফা। ২০৩০ বিশ্বকাপে এটি আরও বেড়ে ৬৪ দলের বিশ্বকাপও দেখা যেতে পারে।
শুধু দলের সংখ্যা বাড়ানোর সমালোচনাই নয়, সর্বশেষ বিশ্বকাপে আমেরিকার বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি মওকুফ করতে ফিফার যে ভূমিকা ছিল, সেটা নিয়েও অসন্তোষ জানান তেবাস। আরও অনেক বিতর্কের সঙ্গে তেবাসের নাম জড়িয়ে থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চে ফিফার কংগ্রেসে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হবেন। তবে তেবাস মনে করেন, ফিফা থেকে ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানো উচিত।
এ প্রসঙ্গে লা লিগা সভাপতি বলেন, ‘আমার মতে, হ্যাঁ, (তাঁর পদত্যাগ করা উচিত)। আমি মনে করি, তাঁর সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি এই ব্যবস্থার, ফেডারেশনগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন। এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’
যে পদ্ধতিতে ফিফার সভাপতি নির্বাচন হয়, সেই ব্যবস্থাকে অসুস্থ উল্লেখ করে তেবাস বলেছেন, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। কেউ হেরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াতে চায় না। এটাই এই ব্যবস্থা, আর এই ব্যবস্থাটিই গোড়া থেকে অসুস্থ।’



