সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় প্রধান

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০০ পিএম

কর্ণাটকে কংগ্রেসের জয়ের কথা আপামর ভারতবাসী জেনে গেছে সেই ১৩ মে, আজ থেকে ৫ দিন আগে। কিন্তু ওই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কার হাতে যাবে, সেটা ঠিক করতেই দিন চারেক কেটে গেল। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি মেনে ১৩ মের পর কংগ্রেসের নির্বাচিত এমএলএ বা বিধায়কেরা (বিধানসভার সদস্য) বৈঠকে বসেছিলেন। ধারণা করি, সাড়ে তিন বছর পর রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পেরে তাঁরা যারপরনাই উল্লসিত, আহ্লাদিত। আনন্দ-অভিনন্দনের সাথে জবরদস্ত খানাপিনাও হয়েছে নিশ্চয়। কিন্তু যে কাজের জন্য তাঁদের এই বসা; অর্থাৎ, নেতা নির্বাচন- সেই কাজটিই তাঁরা করতে পারেননি।

যথা পূর্বং তথা পরম্‌-ই আছে। এই দায়িত্ব নির্বাচিত বিধায়কেরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর সঁপে দিয়ে দায় সেরেছেন। বিষয়টা এমন যেন জনগণ তাঁদের ভোট দিয়েছে শুধু সেবা দেওয়া বা পাওয়ার জন্য, নেতা নির্বাচনের জন্য নয়। ওই কাজটির জন্য তো দিল্লিতে একদল তাবড় তাবড় নেতা বসে আছেন। সুতারাং এই অপ্রীতিকর কাজটা তাঁরা কেন করতে যাবেন।

এই চলতি ব্যবস্থার জন্য শুধু ভারতকে দায়ী করা ঠিক হবে না। দক্ষিণ এশিয়ার তিন বড় দেশ ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান- যারা ব্রিটিশদের সূত্র ধরে গণতন্ত্রের সবক শিখেছে তাদের সব দলের জন্য প্রয়োজ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চায় এই ধারা এমনভাবে গেঁড়ে বসেছে যে, তা দূর করা খুবই কঠিন। গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধারণ করে দল করছি, গড়ছি; কিন্তু মনের মধ্যে ঘুমিয়ে আছে এক কঠিন সামন্তবাদ। যেখানে যাকে রাজা বা প্রভু বলে মনে হয় তাঁর আদেশই শিরোধার্য।

এই ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেমন পুরোটা দোষ দেওয়া যায় না, তেমনি শীর্ষ নেতৃত্বও যে সব সময় দায়ী বিষয়টা এমন নয়। অনেকটা যেন ডিম আগে না মুরগি আগের মতো এক রাজনৈতিক খেলা। নিজের ঘাড় থেকে অপ্রীতিকর সিদ্ধান্তের বোঝা অন্যের কাঁধে চাপাতে পারলেই আমরা সবাই কম-বেশি খুশি হই। আর রাজনৈতিক দল হলে তো কথাই নেই। বিশেষত নিচের তলার যারা থাকেন, তাঁদের সুবিধা অনেক বেশি। কারণ, শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন তাঁদের তো কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। অতএব আমরা ভালো থাকলাম।

আসুন কর্ণাটকে কংগ্রসের জয়ের বিষয়টি কেসস্টাডি হিসেবে ধরে নিয়ে আলোচনা করি। বিজয়ী কংগ্রেসের দুই নেতা সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমার- উভয়েই মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। কিন্তু সমস্যা হয়েছে, পদ তো একটি। এর সমাধানে ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহাবুদ্দীন ইয়াকুব কুরেশি তিন দিন আগে তাঁর টুইটারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নির্বাচিত এমএলএদের গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির মাধ্যমে কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া উচিত। দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নয়। দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের জন্য এটা তাঁর বিনীত অনুরোধ। তাঁর টুইটারের জবাবে অধিকাংশ ব্যক্তিই একমত হয়েছেন। কেউ কেউ এটাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন। কেউ বলেছেন, আমেরিকার পদ্ধতি অনুসরণ করে দলের নিচুতলার কর্মীদের ভোটে প্রার্থী ঠিক করতে। কিন্তু সবাই জানে এটা সম্ভব না। হয়ওনি।

শেষমেষ চার দিন আলোচনা শেষে ঠিক হয়েছে, ৭৫ বছরের সিদ্দারামাইয়া হবেন মুখ্যমন্ত্রী। আর ৬১ বছরের ‘অসন্তুষ্ট’ কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমার হবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী। সবারই মোটামুটি জানা, ব্রিটিশ সংসদীয় গণতন্ত্র ভারতীয় উপমহাদেশের চর্চায় জারিত হয়ে যে রূপ পরিগ্রহ করেছে, তাতে উপ-টুপোর কোনো দাম নেই। যিনি সরকারপ্রধান থাকবেন, তিনিই আসলে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ক্ষমতা নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী বা পিতৃঘাতী সংঘাতের জন্য আমরা ইতিহাসের পাতায় স্থান নেওয়া অনেক রাজা-বাদশাহকে কাঠগড়ায় তুলি। এর সবচেয়ে বড় শিকার মনে হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব।

কিন্তু একুশ শতকে এসেও কেউ যে তখতে বসতে বা বসার জন্য আওরঙ্গজেবের চেয়ে কম যান না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন তার হিসেব আমরা কজন রাখি। রাজস্থানের কথাই ধরুন। সেখানে কংগ্রসে দুই নেতা অশোক গেহলট ও শচীন পাইলট এক মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’- এভাবে প্রকাশ্যে লড়ে যাচ্ছেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সামনেই।

তবে নেতা নির্বাচনে এমএলএরা কেন সোচ্চার হন না-তার কারণ কী? কারণ একটাই, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে মন্ত্রিসভা গড়ার ভার। অতএব মন্ত্রিত্বের শিঁকে ভাগ্যে জুটতে হলে তাঁকে কোনো মতেই চটানো চলবে না। এর পর যাদের ঠাঁই হবে না মন্ত্রিসভায়, তাঁদের জন্য তো নানা সরকারি কাজ বা পদ তো আছেই। সে জন্য কোনোভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কুনজরে পড়া চলবে না। কারণ, নির্বাচনী বিনিয়োগ যদি সুদে-আসলে না উঠে আসে তাহলে চলবে কীভাবে? দেওয়া-নেওয়া-পাওয়ার এই খেলায় গণতন্ত্র নামক বিষয়টি যতক্ষণ বইয়ের ভেতরে থাকে, ততক্ষণই মঙ্গল। তাই এই খেলায় জো-হুজুর হওয়াই উত্তম।

গণতন্ত্রের এই ভারতীয়করণে শীর্ষ নেতৃত্বও সব সময় সেভাবে চান না নিচ থেকে নেতৃত্ব উঠে আসুক বা শক্তিশালী হোক। আর ইতিহাসের নানা ঘটনা পরম্পরা ও বাঁক বদলের কারণে অধিকাংশ দল পরিবারতন্ত্রের সমর্থক হয়ে উঠেছে। সচেতন পাঠকমাত্র উপমহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এই চরিত্র ও ইতিহাসের সাথে পারিচিত। আর চাইলেও এর থেকে সহসা বেরিয়ে আসা কঠিন। বামপন্থী বা বিজেপির মতো ধর্ম-নির্ভর দলগুলো হয়তো কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল। বিজেপির কথাই ধরা যাক। দলের সভাপতি এক সময় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এখনো হয়তো কাগজে-কলমে তা বহাল আছে। তবে বর্তমানে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা বর্তমান বিজেপি সভাপতিরও নেই। কংগ্রেসে মুল্লিকার্জুন খাড়গে নামমাত্র সভাপতি। সেটা স্পষ্ট হয়, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী-সমস্যা সমাধানে শেষ পর্যন্ত রাহুল-সোনিয়াকে হস্তক্ষেপ করতে দেখে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল-সর্বত্র একই পরিস্থিতি বিরাজমান।

পরিবার-কেন্দ্রিক দলগুলোর দলীয় প্রধানেরাও অনেক ক্ষেত্রে অসহায়। কারণ দলের ভেতরে বা স্থানীয় স্তরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় কেউ কোনো দায় নিতে চায় না। ফলে ভুল-ঠিক যাই হোক, দলীয় বা সরকারপ্রধানকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নিতে বাধ্য তাঁরা। কারণ দল চালাতে হবে, নেতৃত্ব রক্ষা করতে হবে। উপায় নেই।

ফলে ইউরোপে বা পশ্চিমা বিশ্বে যে গণতন্ত্রের চর্চা দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে, তা আসলে ভারতীয় উপমহাদেশে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। পলিটিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়ও হতে পারে। এই উপমহাদেশে চলমান গণতন্ত্রকে হাইব্রিড ডেমোক্রেসি (দো আঁশলা বা জগাখিচুড়ি গণতন্ত্র), অথোরেটেরিয়ান ডেমোক্রেসি (কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্র), ইলেকটোরাল ডেমোক্রসি (নির্বাচনী গণতন্ত্র), ক্লোজড ডেমোক্রেসি (রুদ্ধ গণতন্ত্র)-যে নামেই অভিহিত করুন না কেন, সেই ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রই এখানে চলবে। বরং অপ্রস্তুত ভোটার-মানসে পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার বিপদও অনেক। সেই এস ওয়াজেদ আলীর দেখার মতো, সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে । এটাই হয়তো চলবে। ভারতীয় উপমহাদেশীয় গণতন্ত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার তাই আপাতত দলীয় বা সরকারপ্রধানদের হাতেই থাকবে।

সেলিম খান: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল মিডিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সঙ্গে সঙ্গে এ পথে কোনো জ্বালানি তেল পরিবহন করতে দেওয়া হবে না...
ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে আজ এই তথ্য দিয়েছে আল জাজিরা।
হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণেরপর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বরাতে আজ আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পদ্মা ট্রেনের টিটির কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন সংলগ্ন...
সুফল পেয়ে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যান চলাচলের চারটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দাবি করে, সড়কে আরও দুটি অপরাধ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুরতলায় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলের যে ভবনটিতে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে সেই ভবনটির কিছু নির্মাণক্রুটি ছিল। আর পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি ও তাঁর তদারকি কর্মকর্তার...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর