মৃত্যু মানেই সব শেষ নয়। মৃতদের জন্যও থাকে বিশেষ দিন, বিশেষ উৎসব। লাতিন আমেরিকাজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয় ‘ডে অফ দ্য ডেড’। প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে তিন দিন ধরে চলে এই উৎসব।
মেক্সিকোর মানুষরা বিশ্বাস করেন, প্রতিবছর বিশেষ এক সময়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন মৃত স্বজনরা। সেই সময়টাকে তারা উদযাপন করেন ‘দিয়া দে মুয়ের্তোস’ বা ‘ডে অফ দ্য ডেড’ নামে। বাংলায় যার অর্থ— মৃতদের দিবস।
লাতিন আমেরিকায় এই উৎসবের ব্যাপ্তি তিন দিনের। ৩১ অক্টোবর স্মরণ করা হয় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের, ১ নভেম্বর মৃত শিশুদের, আর ২ নভেম্বর পরিবারের বয়স্কদের স্মরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব।
মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং জীবনকে আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করার বার্তা নিয়েই আসে এই উৎসব। প্রিয় মানুষদের পছন্দের খাবার সাজানো হয় তাদের স্মরণে। কবরে বসে, মৃত স্বজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয় আনন্দ।
ইতিহাসবিদরা জানান, মৃত দিবসের উৎপত্তি মূলত ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে। এর সূত্রপাত ঘটে ঔপনিবেশিক আমলে— বিশেষ করে ১৬, ১৭ ও ১৮ শতকে। ইউরোপীয়রা যখন আমেরিকায় আসে, তখন তারাও সঙ্গে নিয়ে আসে এই মৃতদের দিবস পালনের রীতি।
আমেরিকায় আগত ইউরোপীয়রা তাদের প্রয়াত স্বজনদের জন্য ১ ও ২ নভেম্বর ‘ডে অফ দ্য ডেড’ উদযাপন করত। তারা এমন উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে যা ইউরোপে পাওয়া যেত না। এর মধ্যে অন্যতম গাঁদা ফুল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসবের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো বিশেষ আকৃতির পাউরুটি, যার ওপর চোখে পড়ে হাড় ও খুলির নকশা। মেক্সিকানদের কাছে এটি পরিচিত ‘প্যান দে মুয়ের্তো’ নামে।
কাগজে তৈরি নানা শিল্পকর্ম ছাড়া এই উৎসব কল্পনাই করতে পারে না মেক্সিকোর মানুষ। তাই উৎসবের আগে ব্যস্ত সময় কাটান স্থানীয় শিল্পীরা।
ঐতিহ্যবাহী পোশাকের জাকজমকও চোখে পড়ে মৃতদের উৎসবে। অনেকের মুখে দেখা যায় বিচিত্র সব আঁকিবুকি ও রঙিন নকশা।
‘ডে অফ দ্য ডেড’ উৎসবকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সাল থেকে মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশাল শোভাযাত্রা। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি অংশ নেন বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও।



