ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক আকারে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা। সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রতিহত করতে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করার পাশাপাশি কৌশলগত সেনা মোতায়েনও করতে শুরু করেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির প্যাদ্রিনো লোপেজ জানিয়েছেন, বুধবার সারা দিন ধরে চলবে তাঁদের স্থল, আকাশ, নৌ ও রিজার্ভ ফোর্সের মহড়া। ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টিকে তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদী হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলার নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে বলিভারিয়ান মিলিশিয়াও। উল্লেখ্য, বলিভারিয়ান মিলিশিয়া হচ্ছে দেশটির প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুগো শ্যাভেজের তৈরি একটি রিজার্ভ বাহিনী, যেটি মূলত সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত। এই বাহিনীটির নামকরণ করা হয়েছে সাইমন বলিভার-এর নামে, যার সহায়তায় লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরাসরি নির্দেশে প্যাদ্রিনো লোপেজ এই মহড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ‘কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে’ উন্নত করার মাধ্যমে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই মহড়ার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত কিছুদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার আশেপাশে আমেরিকা তাঁদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ খোলাখুলি-ই মাদুরো সরকারকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এবারে ক্যারিবীয় সাগরে শক্তিশালী মার্কিন সামরিক তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় দেশ দুটির মাঝে উত্তেজনার পারদ আরও তুঙ্গে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আমেরিকার বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ ইউএস সাউদার্ন কমান্ড অপারেশন এলাকায় এসে পৌঁছেছে। এই অঞ্চলটির বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত।
ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টিকে আমেরিকা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই সামরিক তৎপরতা মূলত এই অঞ্চলে মাদক পাচার রোধ এবং আমেরিকায় মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতেই চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী অনেকগুলো সন্দেহজনক মাদকবাহী নৌকার উপর হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন



