মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট এল মেনচোর মৃত্যুর পর ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির ৩২টি রাজ্যের মধ্যে ২০টিতেই ঘটে সহিংসতা। এতে ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ সদস্যসহ অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন করেছে সরকার।
রোববার মেক্সিকোর জালিসকো রাজ্যে অভিযান চালিয়ে মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট এল মেনচোকে আটক করে দেশটির স্পেশাল ফোর্স। তাঁকে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেয়ার সময় তার সমর্থকদের সাথে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। এতে গুরুতর আহত এল মেনচো হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান।
এল মেনচো ছিলেন অপরাধী সংগঠন জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের নেতা।
এল মেনচো মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মেক্সিকোজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে চলতে থাকে একের পর এক হামলা। ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের পাল্টা জবাবে ৩০ জনের বেশি কার্টেল সদস্য নিহত হয়।
দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রী জানান, কার্টেল সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করে, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। অনেক শহরে ব্যাংক ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও আগুন দেয়া হয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবিতেও সহিংসতার ভয়াবহতার চিত্র স্পষ্ট।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেন, এল মেনচোকে ধরতে অভিযানে মার্কিন বাহিনীর অংশগ্রহণ ছিলো না। সেইসাথে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘সব ধরনের অভিযান ফেডারেল বাহিনীই পরিচালনা করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। তবে মার্কিন সরকার তথ্য দিয়েছে। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পুরো অভিযানের দায়িত্ব ছিল ফেডারেল বাহিনীর, বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের’ – বলেছেন শেইনবাউম।
মাদক কার্টেল দমনে মেক্সিকো সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।



