পাকিস্তানের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের সাজা দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার দল পিটিআইয়ের জন্য সামনে আরও কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দুর্নীতির মামলায় টানা ২৮ মাসের বেশি সময় কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতারা তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতেও বাধার মুখে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।
এর মধ্যেই গেল ১১ ডিসেম্বর ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ফয়েজ হামিদকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন সামরিক আদালত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ ৪টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খান ও ফয়েজ হামিদের ঘটনা আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের ধারণা, এই সাজা ইমরান ও পিটিআইয়ের জন্য আরও কঠোর সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মামলার ধারাবাহিকতায় দুউজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাদের মতে, এই রায়ের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন রাজনৈতিক কৌশল বা সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সাহস না পায়– সে বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী ও সিনেটর ফয়সাল ভাওদার দাবি, ২০২৩ সালের মে মাসের সহিংসতার ঘটনায় ইমরানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ফয়েজ হামিদ।
ওই বছরের ৯ মে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ লোকজন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযোগ, এসব সহিংসতায় ফয়েজ হামিদের ভূমিকা ছিল। যদিও তা সব সময় অস্বীকার করেছে পিটিআই।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক নেতৃত্ব অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে। ফয়েজ হামিদের সাজার রায় দেশটির রাজনীতিতে নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে। যা ইমরান খান ও পিটিআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে বলে মত তাদের।



