ইরানের একটি সামরিক জাহাজ শ্রীলঙ্কার উপকূলে ডুবে গেছে। বুধবার শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। তবে কীভাবে এবং কী কারণে জাহাজটি ডুবেছে, এ নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবমেরিন হামলায় জাহাজটি ডুবে গেছে। সাবমেরিন হামলা কারা চালিয়েছে সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু বলা হয়নি।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজডুবির পর উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন। পরে নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ৩২ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা চিকিৎসাধীন আছেন।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে ইরানের সামরিক জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠায়। রয়টার্স বলছে, গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৩০ মিনিটে বিপদসংকেত বা ডিসট্রেস কল দিয়েছে জাহাজটি। বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে হলেও মানবিক কারণে তারা তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়। এরপর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করে এবং আহতদের দক্ষিণাঞ্চলের গল শহরের হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে নৌবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, উদ্ধার অভিযানের সময় কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো জাহাজের নাবিকদের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনই জানানো সম্ভব নয়। কর্মকর্তারা মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ করছেন।
নৌবাহিনীর নাম প্রকাশে অপারগ এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ‘এই মুহূর্তে মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের জীবন বাঁচানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। পরে অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’
আরও একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সাবমেরিন হামলার ঘটনায় অন্তত ১০১ জন নিখোঁজ, একজন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। তবে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র এই ১০১ জন নিখোঁজের তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ৩২ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে ঘটেছে। তবে শ্রীলঙ্কা সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিপদসংকেত পাওয়ার সময় আকাশে কোনো বিমান দেখা যায়নি এবং আশপাশে অন্য কোনো জাহাজও ছিল না বলেও জানান তিনি। শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্রও বলেছেন, বিপদসংকেতের সময় ওই এলাকায় কোনো উড়োজাহাজ দেখা যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গল শহরের উপকূলের কাছে জাহাজটি বিপদসংকেত পাঠায়। আহতদের গল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সাবমেরিন হামলার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ।



