ইরান-আমেরিকার সংঘাত কি শেষের পথে? বিশ্বজুড়ে বাড়ছে সমঝোতার আশা। কিন্তু যুদ্ধের উত্তাপে ইতিমধ্যে ক্ষতির শিকার দেশগুলো কতটা স্বস্তিতে? অন্তত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের নেতাদের তোড়জোড় বলে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় তাঁরা মহাচিন্তিত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত মিললেও এর ধাক্কা এখনো সামলাতে পারছে না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। বিশেষ করে এ অঞ্চলের তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়ছে উদ্বেগ। আর সেই কারণেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের ৪৮তম শীর্ষ সম্মেলনে এবার সবচেয়ে বড় ইস্যু—জ্বালানি নিরাপত্তা।
দুই মাসেরও বেশি সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার খেসারত দিয়েছে বহু দেশ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেলপথে অচলাবস্থা তৈরি হতেই নড়ে ওঠে বৈশ্বিক অর্থনীতি। আর তার বড় চাপ পড়ে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ওপর।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফিলিপাইনের সেবু দ্বীপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন। ১১ সদস্যের জোটের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে। প্রায় ৭০ কোটি মানুষের এই অঞ্চলে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
আসিয়ান নেতারা আশঙ্কা করছেন—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্য সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব মা. থেরেসা লাজারো সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট জ্বালানি প্রবাহ, বাণিজ্য পথ ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
তবে শুধু জ্বালানি সংকট নয়—এই সংঘাত আরও স্পষ্ট করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত, তখন চীন নিজেকে তুলে ধরছে আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে।
আসিয়ান সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলের প্রায় পুরো সমুদ্রসীমার ওপর দাবি করছে চীন—যা আসিয়ানের কয়েকটি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
এখন সবার চোখ সেবু দ্বীপের দিকে। শুক্রবার আসিয়ানভুক্ত দেশের নেতারা কী কী সিদ্ধান্তে আসেন, সেটাই দেখার বিষয়। ইরান-আমেরিকা সংকট মিটে গেলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য ঝুঁকি থেকেই যাবে।
বিশ্বরাজনীতির প্রতিটি সংঘাত আজ আর শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে।



