নতুন সরকারের অধীনে আরও নৃশংস হয়ে উঠেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে বেড়েছে দমন-পীড়ন। নথিভুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি গণহত্যার ঘটনা। আর নিহত হয়েছেন সাড়ে চার শরও বেশি বেসামরিক নাগরিক।
ক্ষমতা বদল হলেও মিয়ানমারবাসীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং সামরিক আগ্রাসনের কারণে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বছরের শুরুতে অধিকাংশ বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একতরফা নির্বাচন করে জান্তা সরকার। এতে জয়ী হয় সেনা-সমর্থিত দল ইউএসডিপি। সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে এসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মিন অং হ্লাইং।
দীর্ঘদিনের অনুগত গুপ্তচর উইন উ-কে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন মিন অং হ্লাইং। তবে মার্চ মাসে সামরিক কমান্ড পুনর্গঠনের পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
সামরিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘এসিএলইডি’র তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশাসনের অধীনে সামরিক বাহিনী আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক।
এসিএলইডি বলছে, দেশজুড়ে নিয়মিত বিরতিতে একটানা বিমান হামলা চালাচ্ছে দুই থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কবার্তার পরও দমননীতি থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না জান্তা সরকার।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন মতে, গত ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১ লাখ মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩৬ লাখের বেশি মানুষ।



