ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। আহত দুই শতাধিক। বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে এখন অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। শনিবারের ভূমিকম্পের পর প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সংকটে হাজারো মানুষ। রয়টার্স জানিয়েছে এ খবর।
শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছাপ এখনো স্পষ্ট। রাস্তাজুড়ে বিশাল ফাটল, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি। কোথাও চলছে উদ্ধার অভিযান, আবার কোথাও আশ্রয় নিয়েছে আতঙ্কিত মানুষ। নতুন করে ভূকম্পনের শঙ্কায় কাটছে তাদের দিন-রাত।
ভূমিকম্পের পর ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। আবারও ভূমিকম্পের শঙ্কায় ঘরে ফেরার সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই। তাই তাঁবু, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন তারা।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১৩শর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। শুধু ফ্লোরেসেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আড়াইশ ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও সরকারি কার্যালয়ও।
দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। তবে ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে দুর্গম স্থানে ত্রাণ পৌঁছাতে অনেক সময় লাগছে।
ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকায় যাওয়ার সুযোগ কিছুটা বাড়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি জেলাতেও পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গতদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা যথেষ্ট নয়।
দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। অনেক দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি সহায়তা। কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত।



