রাশিয়ান জালে বাংলাদেশ, এক ক্লিকেই গায়েব কোটি কোটি টাকা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

প্রযুক্তির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন দেশে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি নতুন জুয়ার সাইট খুলছে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র। একটি বন্ধ হলে পরের দিনই নতুন নামে হাজির আরও পাঁচটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বর্তমানে দেশে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ৫৮৬টি জুয়ার সাইট। আর এসব সাইটে অবৈধ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন দেশ থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু কীভাবে কাজ করছে এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট?

২৫০ কোটির পাচাররহস্য

ঘটনার পেছনের আসল রহস্য উন্মোচিত হয় সম্প্রতি সিআইডির এক অভিযানে। গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে চারজনকে এবং ১৭ মে নরসিংদী ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। রাজধানীর পল্টন থানায় করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গ্রেপ্তার এই আট সদস্যের পরিচালিত চারটি জুয়ার সাইটের সুতো বাঁধা ছিল রাশিয়ার এক শক্তিশালী গ্যাংয়ের হাতে। দেশীয় এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের ব্যবহার করে তারা সাধারণ জুয়াড়িদের কাছ থেকে বিকাশ, রকেট কিংবা নগদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করত।

এরপর সেই টাকা ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হতো। সিআইডির তথ্যমতে, শুধু এই একটি চক্রই দেশ থেকে পাচার করে দিয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যৌথভাবে পাচার হওয়া এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দেশে ফেরত আনার কাজ করছে।

কীভাবে কাজ করে চক্র

বিদেশে বসে চক্র নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, দেশের আনাচে-কানাচে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে এদের নিজস্ব এজেন্ট ও দালাল চক্র। কিন্তু তারা কীভাবে কাজ করে? জুয়াড়িরা এমএফএস কোম্পানির অসাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে কারসাজি করে অথবা দৈনিক ভিত্তিতে নম্বর ভাড়া নিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। গত ৮ জুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে মোস্তাক মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর ছিল বিকাশ ও নগদের বৈধ এজেন্ট ব্যবসা। কিন্তু এই ব্যবসার আড়ালেই মোস্তাক পরিচালনা করত ১০ থেকে ১১টি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।

সিআইডি জানাচ্ছে, একেকটি এমএফএস হিসাব থেকে দৈনিক ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। ৩ হাজার ৮৬৪টি এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং ১৯৮টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা অবৈধ হাতবদল হচ্ছে।

বিটিআরসির পরিসংখ্যান

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এসব সাইটের পেছনে আসলে কারা কলকাঠি নাড়ছে? তদন্তে দেখা গেছে, এসব জুয়ার সাইটের বেশিরভাগই রিমোটলি নিয়ন্ত্রণ করা হয়—রাশিয়া, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ, সেইসব দেশে নিয়ে ক্রিপ্টো ভাঙিয়ে নেওয়া হয় মার্কিন ডলারে। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সিপিসি ইউনিট প্রতিনিয়ত সাইবার প্যাট্রোলিং করে বিটিআরসিকে তালিকা দিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বিটিআরসি বন্ধ করেছে ৫ হাজার ১০৯টি জুয়ার ওয়েবসাইট এবং ৪৫০টি অবৈধ অ্যাপ।

কেন বন্ধ হচ্ছে না অনলাইন জুয়া?

একটা সাইট বন্ধ করার পরও কেন জুয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না? প্রযুক্তির ফাঁকটা ঠিক কোন জায়গায়? তদন্তকারীরা বলছেন—জুয়াড়িরা যখন একটি অ্যাপ বা সাইটে নিবন্ধন করে, তখন তাদের ফোন নম্বর ডেটাবেজে জমা হয়ে যায়। যখনই সরকার একটি সাইট বা অ্যাপ বন্ধ করে দেয়, অপরাধীরা সঙ্গে সঙ্গে সব ব্যবহারকারীর মোবাইলে এসএমএস বা নোটিফিকেশনে নতুন ওয়েবসাইটের লিংক পাঠিয়ে দেয়।

এমনকি আগের সাইটের বকেয়া টাকাও নতুন সাইটে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়। মূল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ও এজেন্টরা যেহেতু সক্রিয় থাকে, তাই নতুন ওয়েবসাইট খুলেই আবার আগের মতো খেলায় মেতে ওঠে জুয়াড়িরা। তবে লাগাম টানতে কঠোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদ ও আইনজীবীদের মতে, শুধুমাত্র সাইট বন্ধ করে এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়। সাইট, অ্যাপ, ব্যবহারকারী, এজেন্ট, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে অর্থের শেষ গন্তব্য—পুরো চেইনকে একসঙ্গে আইনের আওতায় আনতে হবে।

গত ৯ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। প্রচণ্ড গরমে গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকার, চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। তবে এই তীব্র সংকটের মাঝেও রাত ১২টা...
আপনি কি জানেন, গত দুই দশকে সিগারেট থেকে সরকারের কর রাজস্ব বেড়েছে ১১ গুণেরও বেশি! রাজস্ব বোর্ডের হিসাব বলছে, ২০০৬ সালে যেখানে সিগারেট থেকে আয় হতো ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, গত অর্থবছরে তা গিয়ে ঠেকেছে...
কোথাও দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকার, শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ। ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের ঘর। উৎপাদনের...
কাগজে-কলমে তিনি কেবলই রাষ্ট্রের আলংকারিক প্রধান। সংবিধানে বলা আছে, দেশের শাসনকাজ বা ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। অথচ এই রাষ্ট্রপতির আসনে কাকে বসানো হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার...
বিখ্যাত অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় এই অঙ্কটি প্রায় ৪৯০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। নিলামে নতুন কোনো গাড়ির...
নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করতে শুধু অভিযান আর জরিমানা যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার ব্যবসায়ীদের...
সদ্য শেষ হওয়া চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হককে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের মেয়াদ...
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ‍্যালায়েন্স। আলোচনা সভায় শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা...
লোডিং...

এলাকার খবর