মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। তবে জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বড় পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও বিদ্রোহী জোটের দাপট কাটিয়ে সামরিক বাহিনী হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন মোড় নিয়েছে দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধ।
জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা গ্রহণ করেন ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মূল নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের কাছে দখল হারানো ১০১টি শহরের মধ্যে অন্তত ২২টি কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে সামরিক বাহিনী।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহীদের ওপর পাঁচ শতাধিক বিমান হামলা ও এক হাজারের বেশি স্থল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এর প্রভাবে দীর্ঘদিন বিরোধীদের দখলে থাকা চিন রাজ্যের একমাত্র বিমানবন্দর ও ভারতীয় সীমান্তের বাণিজ্য পথগুলোর নিয়ন্ত্রণও ফিরেছে সরকারের হাতে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মিন অং হ্লাইংয়ের দূরদর্শী ও বহুমুখী কৌশল।
বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের মাধ্যমে গত দুই বছরে সেনাবাহিনীতে প্রায় দেড় লাখ নতুন সৈন্য যুক্ত করা হয়েছে। যদিও তাঁদের অনেকেরই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, তবে এই সংখ্যাগত আধিপত্যই যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
পাশাপাশি, অবিরাম বিমান হামলা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চীনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা সরকারি বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেইজিংয়ের চাপে ইতিমধ্যে কয়েকটি শক্তিশালী বিদ্রোহী দল যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হওয়ায় গোলাবারুদের সংকটে পড়েছে প্রতিরোধকারীরা। ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বড় আক্রমণ পরিহার করে এখন প্রতিরক্ষামূলক গেরিলা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি বাহিনীর লাগাতার আক্রমণ ও বিমান হামলার মুখে বিদ্রোহীদের মনোবল কিছুটা ভেঙে পড়লেও, এখনই লড়াই থামার কোনো লক্ষণ নেই। তাই আগামী মাসগুলোতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।



