ব্রিটেনে ঐতিহ্যবাহী পাবগুলো যেন দ্রুতই বন্ধ হচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুইটি করে পাব বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠন।
ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশন (বিবিপিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬১টি পাব বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২,৪০০ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
সংস্থাটির মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘদিনের চাপের ফল। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার পাব ও সংগীত ভেন্যুগুলোর জন্য ব্যবসায় কর (বিজনেস রেটস) কমানোর ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতি হয়নি।
এ বছরের শুরুতে সরকার পাব ও সংগীত ভেন্যুগুলোর জন্য ১৫ শতাংশ কর ছাড় দেয়, যা গত মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি যথেষ্ট নয়।
বিবিপিএর প্রধান নির্বাহী এমা ম্যাকক্লারকিন বলেন, ‘অনেক পাব এখনো ভালো ব্যবসা করছে। কিন্তু অতিরিক্ত কর ও খরচের কারণে তাদের লাভ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, ‘এই বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকটাই এড়ানো যেত, যদি করের চাপ এত বেশি না হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। যাতে খাতটির জন্য কর কমানো যায় এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরি হয়।’
ব্রিটেনজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাব ও রেস্তোরাঁ খাত নানা চাপের মুখে পড়েছে। শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যবসায় করের চাপ এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি পাব বন্ধ হয়েছে। মাত্র তিন মাসে ৪১টি। অন্যদিকে ওয়েলস একমাত্র অঞ্চল, যেখানে পাবের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে সরকার বলছে, তারা এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
একটি সরকারি মুখপাত্র জানান, এপ্রিল থেকে ব্যবসায় কর ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং আগামী দুই বছর এই হার স্থির থাকবে। এছাড়া পাবগুলোর খোলা থাকার সময় বাড়ানো হয়েছে এবং হসপিটালিটি খাতে সহায়তা তহবিল ১ কোটি পাউন্ডে উন্নীত করা হয়েছে।
সরকার আরও বলছে, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮০টি এলাকায় ছোট ব্যবসা ও পাব খাতকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে পাব বন্ধ হতে থাকলে ব্রিটেনের বহু পুরোনো সামাজিক সংস্কৃতির একটি অংশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে।



