ইউক্রেন দাবি করছে, ইউক্রেনের বন্দরের দিকে যেতে থাকা দুটি জাহাজে গতকাল হামলা করেছে রাশিয়ার ড্রোন, যার মধ্যে একটি চীনা মালিকানাধীন। ঘটনাটা ঘটল এমন এক দিনে, যার এক দিন পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে বেইজিং সফর করার কথা।
১৯ ও ২০ মে - এই দুদিন বেইজিং সফরে থাকবেন পুতিন।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার এই হামলায় দুটি বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। এর একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকা বহন করছিল, অন্যটিতে ছিল গিনি-বিসাওয়ের পতাকা। দুটি জাহাজই ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হামলার শিকার যে জাহাজটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকা বহন করছিল, সেটির নাম কেএসএল ডেয়াং - যা চীনা মালিকানাধীন একটি জাহাজ এবং এতে থাকা ক্রু-ও চীনের। ইউক্রেনের নৌবাহিনী ওই জাহাজের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে জাহাজটির নাম দেখা যাচ্ছে এবং জাহাজের একটি দিক আংশিকভাবে জ্বলে গেছে বলে দৃশ্যমান ছিল।
রাশিয়া নিয়মিতভাবে ওডেসার বন্দর এলাকায় বেসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের কৃষি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্দরটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চার বছর আগে ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর থেকে এই বন্দরের ওপর রুশ আক্রমণ চলছেই।
সোমবার আক্রমণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ড্রোনগুলো ওডেসায় আঘাত হেনেছে, এর মধ্যে একটি ইউএভি (মানবহীন আকাশযান) চীনের মালিকানাধীন একটি জাহাজে আঘাত করেছে। সমুদ্রে ওটা কাদের জাহাজ ছিল, সেটা রাশিয়ানরা না জানার কথা নয়।’
রাশিয়ার দিক থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।
ইউক্রেনের নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপি-কে জানিয়েছেন, জাহাজটির সব ক্রু-ই চীনা নাগরিক এবং তাঁদের কেউ আহত হননি। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও জাহাজটি যাত্রা চালিয়ে গেছে। এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার সময় ডেয়াং জাহাজটিতে কোনো পণ্য ছিল না। এটি ওডেসার পিভদেন্নি বন্দরে লোহার সমৃদ্ধ খনিজ পদার্থ (আয়রন ওর কনসেনট্রেট) লোড করতে যাচ্ছিল।
‘জাহাজটি (পণ্য) লোড করতেই বন্দরে ঢুকছিল। রাতে এটি শাহেদ ড্রোনের আঘাতের মুখে পড়ে। তবে ক্রু-রা নিজেরাই পরিস্থিতি সামলেছে। সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হয়নি এবং জাহাজ তার গন্তব্যের বন্দরের দিকে যাত্রা চালিয়ে গেছে’ - জানিয়েছেন ইউক্রেন নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ান সেনারা রাতে ৫২৪টি ড্রোন ও ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে আছে ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
চীন নিয়মিতই ইউক্রেনে এই যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু তারা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা পাঠানো নিয়ে কখনো নিন্দা জানায়নি এবং সব সময় নিজেদের এই যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ একটা পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।



