গত ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর বোয়িংয়ের উড়োজাহাজে ব্যবহৃত ফুয়েল সুইচ লক বাধ্যতামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ)।
ডিজিসিএ আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত বিমান অপারেটরকে ইঞ্জিন জ্বালানি সুইচ পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি অপারেটরদের উড়োজাহাজ উৎপাদনকারী বা নকশাকারী দেশের দেওয়া নির্দেশকার ভিত্তিতে উড়োজাহাজ, ইঞ্জিন এবং উপাদান বাধ্যতামূলক পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
এই আদেশটি বিশেষভাবে বোয়িং কোম্পানির উড়োজাহাজগুলির মডেলগুলির ওপর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৭৩৭ এবং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সিরিজ।
১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনার বিষয়ে এএআইবি-এর ১৫ পৃষ্ঠার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। এএআইবি-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উভয় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইঞ্জিন ১ এবং ইঞ্জিন ২-এর জ্বালানি কাটঅফ সুইচ দুইটি এক সেকেন্ডের মধ্যে রান থেকে কাটঅফ-এ রূপান্তরিত হয়, ফলে ইঞ্জিনগুলি তাদের শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও স্থিতিশীল হতে ব্যর্থ হয়।
এদিকে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজে ব্যবহৃত ফুয়েল সুইচ লক নিরাপদ বলে দাবি করেছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও বোয়িং। একটি নথি এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানা চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১১ জুলাই এফএএ ‘কনটিনিউড এয়ারওয়ার্দিনেস’ নামে ওই বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর ঠিক এক মাস আগে, ১২ জুন ভারতে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের সুইচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষগুলোকে পাঠানো এফএএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ডিজাইন এবং লকিং ফিচার একাধিক বোয়িং মডেলে একই রকম। এফএএ মনে করে না যে, এটি কোনো ধরনের সমস্যা যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই বোয়িংয়ের কোনো মডেলের জন্য এয়ারওয়ার্দিনেস ডিরেক্টিভ জারি করার প্রয়োজন নেই।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে এফএএ জানায়, তাদের ওই বিজ্ঞপ্তির বাইরে কিছু বলার নেই।
আমেরিকাভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংও সম্প্রতি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর উদ্দেশে পাঠানো মাল্টি-অপারেটর বার্তায় এফএএ-এর বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, বোয়িং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেনি। বোয়িংয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা জানায়, এফএএ দেওয়া বক্তব্যেই সব রয়েছে।
এদিকে ভারতের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্তকারী ব্যুরো (এএআইবি) সাম্প্রতিক ওই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে। তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের একটি এফএএ-এর দেওয়া পরামর্শের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে একাধিক বোয়িং মডেল (যার মধ্যে ৭৮৭ রয়েছে) ফুয়েল কাট-অফ সুইচের লকিং ফিচার ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছিল।
তদন্তে দেখা গেছে, এয়ার ইন্ডিয়া এফএএ-এর ২০১৮ সালের ওই পরামর্শ মতো উড়োজাহাজ পরীক্ষা করেনি, কারণ সেটি ‘আবশ্যিক’ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল। তবে ফ্লাইট ও ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব এয়ারওয়ার্দিনেস ডিরেক্টিভ এবং সার্ভিস বুলেটিন মেনে চলা হয়েছিল।
এদিকে পাইলটদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের ভারতীয় শাখা এএলপিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাইলটের ভুল ধরে নেওয়ার প্রবণতা তারা মানে না। একই সঙ্গে তদন্ত যেন তথ্যনির্ভর ও ন্যায্য হয়, তার দাবি জানায় সংগঠনটি।



