নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার জানান দিয়ে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। বিষয়টিকে পারমাণবিক শক্তিতে ভারতের নতুন মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশাখাপত্তনম উপকূলে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস অরিঘাট’ থেকে কে-৪ নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করে ভারত। পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় সমুদ্র থেকে পারমাণবিক আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।
সফল এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রের তলদেশ— তিনটি মাধ্যম থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের সক্ষমতা, অর্থাৎ 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড', অর্জন করল ভারত। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি শক্তিশালী দেশের তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল তাঁরা।
কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের অন্যতম শক্তিশালী স্থল ক্ষেপণাস্ত্র 'অগ্নি-৩'-এর আদলে তৈরি। বর্তমানে কে-৪ হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে দূর পাল্লার সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। তবে সমুদ্রের নিচ থেকে উৎক্ষেপণের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোল্ড লঞ্চ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির কল্যাণে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমে সাবমেরিনের সাইলো থেকে বের হয়ে পানির উপরিভাগে ভেসে ওঠে। এরপর এর রকেট মোটর সক্রিয় হয়ে আকাশে উড়তে শুরু করে।
কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ২ দশমিক ৫ টন ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এটি ভারতের অরিহন্ত-শ্রেণীর সাবমেরিনগুলো থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য।
অরিহন্ত-শ্রেণীর সাবমেরিনগুলো সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ নিঃশব্দে আত্মগোপন করে থাকতে পারে, যা শত্রুপক্ষের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। ফলে এই সাবমেরিন ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, 'কে' সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালামের নামে। ভারতের 'ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম'-এর নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।



