ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'ভোট লুট' হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনকে 'ভিলেন' বলে আখ্যায়িত করেছেন। আজ মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মমতা এসব কথা বলেন।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফল প্রকাশিত হয় সোমবার। এতে দেখা যায়, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অন্যদিকে, মমতার তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে যায়, টানা ১৫ বছর পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ইতোমধ্যেই নাকচ করেছেন মমতা। আজ স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, 'কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?'
তারপরই তৃণমূল নেত্রী তোপ দাগেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০টির বেশি আসন লুট করেছে বিজেপি।
মমতা বলেন, 'ওরা (বিজেপি) এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা ভোট লুট করেছে।'
এবারের নির্বাচনী লড়াই বিজেপি'র বিরুদ্ধে ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন। তারা মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করেছে। সব অফিসারদের বদলে দিয়েছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।'
বিভিন্ন ইস্যুতে মমতা রাস্তায় নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, দলের নির্বাচিত নেতারা তৃণমূলের পাশেই আছেন।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নিজের ভবানীপুর আসনটিও ধরে রাখতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে বিজেপি'র শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মমতা।



