জন্ম নেওয়ার ৭১ দিনের মধ্যেই প্রথম আন্দোলন ‘সফল’ করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের আন্দোলনের মুখে ভারতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
জন্ম ১৬ মে, ২০২৬। ঠিক তার আগের দিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক বাঁধে। একটি মামলার প্রেক্ষিতে তথাকথিত সমাজকর্মী এবং বেকারদের ‘আরশোলা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’ বলে সমালোচনা করেন তিনি। তারই ‘ফসল’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আরশোলা’দের উপস্থিতি।
প্রথমে নিছক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হতো ওই অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলোয়ার্সের সকলেই প্রায় জেনজি। পরে প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা হয়েছে। কিন্তু ‘আরশোলা’রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমক থেকে বেরিয়ে তত দিনে রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের ডাক দেন তাঁরা। বাকিটা ইতিহাস। রাজধানীর বুকে ‘আরশোলা’রা তাঁদের প্রথম আন্দোলন-যুদ্ধে জয়ী। সিজেপির দাবি মেনে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ৩৬ দিনে প্রথম সাফল্য এল তাদের।
সাংবাদিকতার ছাত্র থেকে রাজনৈতিক যোগাযোগের কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশে জনসংযোগ নিয়ে পড়াশোনা করা ওই যুবক ককরোচ জনতা পার্টি নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলেন।
প্রথমে সরকারি দল এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শুরু হয়। ফলোয়ার বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। হঠাৎ ধাক্কা! অভিজিতের অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার যখন ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে, হঠাৎ ‘স্থগিতাদেশ’ আসে।
গত ২১ জুন দেশের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৯(এ)-এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা আনে ওই অ্যাকাউন্টটির ওপর। অভিযোগ করা হয়, সিজেপির পোস্টগুলো ‘উসকানিমূলক’ এবং তরুণদের ‘ভুল’ বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু ‘আরশোলা’র গতি দুর্বার। খানিক পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় আরেকটি অ্যাকাউন্ট। নাম ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’! পাশাপাশি কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে গত ২৬ মে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিজিৎ।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ককরোচ জনতা পার্টি নামাঙ্কিত অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে, কারণ এরা ২১ জুন নিটের পুনঃপরীক্ষার আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারতো। আদালত সরকারের এই উদ্বেগকে বৈধতা দেয়নি। ৭ জুলাই অ্যাকাউন্টটি ‘আনব্লক’ করার আদেশ দেয়।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ এর আগে আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২০-২৩ সালে আপের প্রচার করতেন তিনি। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা পড়াশোনার সূত্রে এখন মার্কিন প্রবাসী। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন তিনি। নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গত ৬ জুন দেশে ফেরেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা



