অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে দিনের পর দিন খাদ্যাভাবে রয়েছে অনেকে। খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া তেমনি মোহাম্মদ আল-সাইদি ও তার সন্তানরা ২২ দিন পর খেয়েছেন রান্না করা খাবার।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ভূখণ্ডে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধানীতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠি হামাস। এরপর থেকে গাজা উপত্যকায় নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
প্রাণ হারানোর শঙ্কায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছে গাজার দক্ষিণের শহর খান ইউনিসে। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ জাকি আল-সাইদি ও তার সন্তানেরা।
পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটাতে একটি ভ্রাম্যমান দোকানে কোমল পানীয় ও কাস্টার্ড বিক্রি করে আল-সাইদি। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ শেকেল দিয়ে কোনোরকম পরিবারের খাবারের চাহিদা মিটাচ্ছেন তিনি। বাস্তুচ্যুত হওয়ার ২২ দিন পর প্রথমবার রান্না করা ভাত ও মাংস খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের।
শরণার্থী মোহাম্মদ জাকি আল-সাইদি বলেন, 'বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এটা আমাদের প্রথম রান্না করা খাবার। কোমল পানীয় ও কাস্টার্ড বিক্রি করে ভাত ও মাংসের জন্য অবশেষে টাকা জোগাড় করেছি। আমাদের অবস্থা এতোটাই ভয়াবহ যে ২২ দিন পর আমরা প্রথম ভাত ও মাংস খাচ্ছি।'
ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া অনেকে নানা ধরনের ছোট ছোট কাজ করছেন। এমনি নাপিতের দোকান খুলেছেন বিলাল আবু মোস্তফা।
খান ইউনিস ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া আরেক শরণার্থী বিলাল আবু মোস্তফা বলেন, 'এখানে আমরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছি। আমাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য এখানে চুল ও দাড়ি কাটি। আমরা আল্লাহর দয়ার অপেক্ষায় আছি, কোনো আরব দেশের না। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াবে না।'
গাজায় একদিকে স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী অন্যদিকে জ্বালানি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর করুন পরিণতি।


গাজায় ২২ দিন পর ভাত মাংস খেল এক শরণার্থী পরিবার
খুলল রাফাহ সীমান্ত, ১১০ বিদেশিসহ ২০ ফিলিস্তিনি মিশরে
