ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। দুটি ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা অবস্থান করেন। তবে হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না — তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিপুল সংখ্যক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক ঘণ্টায় স্থলবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের হামলা আগামী কয়েক ঘণ্টা ধরেও চলবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে কুয়েতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর জানানো হয়নি। এর আগে বৃহস্পতিবার কুয়েত জানিয়েছিল, ইরান থেকে ছোড়া ১৭৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৮৪টি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।
গত রোববার কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে একটি অস্থায়ী সামরিক অপারেশন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
অন্যদিকে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর গতকাল রাতই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ রাত। ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের একটি দল জানিয়েছে, ভোরের ঠিক আগে কয়েকটি ভারী বিস্ফোরণ হয়েছে এবং একটি এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেছে।
অন্যদিকে লেবাননজুড়ে ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের বড় অংশের জন্য সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এতে সেখানে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক বেসামরিক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
ইসরায়েল আরও দাবি করেছে, তারা ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি বাংকার ধ্বংস করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।



