মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংকটে পড়েছে বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলো। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানান, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় সংকট তৈরি করবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগবে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতে। বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। পরিস্থিতি জটিল হলে অনেক স্বল্প আয়ের দেশের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
আইএমএফ আরও জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে, এক প্রতিবেদনে নরওয়ের জ্বালানি গবেষণা কোম্পানি রিস্তাদ এনার্জি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় বিভিন্ন অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতে প্রয়োজন হবে ৫ হাজার ৮শ কোটি মার্কিন ডলার।
এর মধ্যে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৫ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় অর্থের অঙ্কটা ৬ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেবলমাত্র ৫৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর বৈশ্বিক প্রভাবও রয়েছে। কারণ মেরামতে নজর দিতে গেলে নতুন বিনিয়োগ পিছিয়ে পড়বে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জ্বালানি প্রকল্পে কাজের গতি কমেছে। এতে ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা রিস্তাদ এনার্জির।



