মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে বুধবার (২২ এপ্রিল)। বহুল-প্রতীক্ষিত এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হবে কি-না তা জানতে পুরো বিশ্ববাসী যখন অধীর অপেক্ষা করে আছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ‘আমি যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চাই না।’
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা আলোচনার ক্ষেত্রে খুব শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি, যা অন্য প্রেসিডেন্টদের (মার্কিন) গত ৪৭ বছরে করা উচিত ছিল—এই রক্তপিপাসু মানুষদের সাথে ৪৭ বছর।"
এক্ষেত্রে ৪৭ বছরের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানে সংঘটিত ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব এবং এর পরবর্তী শাসন ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আন্তবিশ্বাসের সাথে আরও জানান, তাঁর দেশ ইরানকে ‘খুব সফলভাবে সামাল দিচ্ছে (ডিল করছে)’ এবং ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
পাশাপাশি ইরানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের জন্য তিনি কঠিন একটি বিকল্প ছুঁড়ে দিয়েছেন, যেখানে হয় তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় আসতে হবে, অথবা পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল সমাধানের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববাসীর।
কিন্তু, বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়ায় আলোচনা থেকে পিছিয়ে আসে ইরান।
এই প্রেক্ষাপটে, দু’পক্ষের মাঝে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
সিএনবিসি’র সাক্ষাৎকারে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি বোমা হামলা শুরু হতে যাচ্ছে, কারণ আমার মতে আলোচনার জন্য এটিই উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি—তবে আমরা প্রস্তুত আছি।’
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান, ‘আমি সেটা করতে চাই না। আমাদের হাতে এত সময় নেই।’
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধের প্রশংসা করে ট্রাম্প আরও জানান, এর মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির আগে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।



