গত ১৫ বছরে পাকিস্তানে এইচআইভি-এইডস সংক্রমণের হার বেড়েছে প্রায় ৫০০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ২১টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানেই এই ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি করাচির এক হাসপাতালে শিশুদের দেহে ভাইরাসটি শনাক্তের ঘটনা নতুন করে দেশটির স্বাস্থ্যসেবার চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এনেছে।
এইচআইভি সংক্রমণের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই বালিকা হাসপাতাল। গত সপ্তাহে এই হাসপাতালে অন্তত ১৩০ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই শিশু।
চলতি ২০২৬ সালে কেবল সিন্ধু প্রদেশেই ৩২৯ শিশুর দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। ব্রিটিশ চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার ত্রুটিই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, সরকারি হিসাবে যা দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি। সিন্ধু হেলথকেয়ার কমিশন বলছে, হাসপাতালগুলোতে সিরিঞ্জ ব্যবহারে অসতর্কতা এবং ব্যবহারের পর তা নষ্ট না করে পুনরায় ব্যবহারের কারণেই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লারকানা, জ্যাকবাবাদ, শিকারপুর ও তৌনসাসহ সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বহু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী দিনগুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যখাত।



