ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে দুই দেশেই সৃষ্টি হয়েছে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। শনিবার (৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে পাল্টা আক্রমণে গাজায় ঘরছাড়া অবস্থায় দিন কাটছে দেড় লাখের বেশি মানুষের। মৃত্যুর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অবিরাম বোমাবর্ষণ-রকেট হামলা চলছে। ইসরায়েল সরকার তা ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ বলে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে সেখানে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন অভিনেত্রী নুশরাত ভারুচা। এবার এই যুদ্ধের বলি হলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুরা নায়েকের বোন ও ভগ্নিপতি।
বর্তমানে কার্লাস টেলিভিশনের জনপ্রিয় ‘নাগিন’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন মধুরা। দুঃসংবাদ দিয়ে তিনি জানান, তাঁর তুতো বোন ওদায়া ও তাঁর স্বামীকে সন্তানদের সামনেই খুন করেছে হামাস। খবর ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে।
এক ভিডিও বার্তায় কাছের মানুষদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মধুরা। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি। সারা ভারতে আমাদের সংখ্যা মোটে ৩০০০। অক্টোবরের ৭ তারিখে আমরা আমাদের পরিবারের এক কন্যা ও পুত্রকে হারিয়েছি। আমার বোন ওদায়া ও তাঁর স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করছে হামাসের জঙ্গিরা, তাঁদেরই সন্তানের সামনে। যে শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ইসরায়েল এই মুহূর্তে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেখানের শিশু ও মহিলাদের রাস্তায় পুড়িয়ে মারছে হামাস। রেহাই দিচ্ছে না বয়স্কদেরও। বেছে বেছে তাঁদেরই খুন করা হচ্ছে।’
বিশ্ববাসীর প্রতি পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে মধুরা আরও বলেন, ‘হামাসের মতো সন্ত্রাসবাদীদের চেহারাটা প্রকাশ্যে আসা দরকার। সকলে জানুক ওরা কতটা অমানবিক।’ শেষে অভিনেত্রী জানান, কোনও ধরনের হিংসা বা সংঘাতের সমর্থক নন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইসরায়েলের হাইফা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী নুশরাত বারুচা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়েন তিনি। অবশেষে ভারত সরকারের তৎপরতায় নিরাপদে মুম্বাই ফেরেন তিনি।


ইসরায়েলে আটকা পড়েছিলেন বেসমেন্টে, আতঙ্কের সেই ৩৬ ঘণ্টা কেমন ছিল নুশরাতের?
গান গাইছিলেন নায়িকা, তখনই হলো হামাসের হামলা
