অষ্টমীর দিন (২২ অক্টোবর) ছিল আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে ছাড়াই এবার পূজা করতে খুব শূন্য লাগছে। মনের মধ্যে সেই কষ্টটা আছে। এর ভিতরেই চলছে পূজার সব আয়োজন। আমার মা এলাকার পূজা কমিটির সদস্য। তাঁকে নিয়ে মণ্ডপে যাওয়া-আসা করছি। কেনাকাটা বলতে মায়ের জন্য শাড়ি কিনেছি। মূলত তাঁকে ঘিরেই সব ব্যস্ততা; হাসি-আনন্দ। অন্যদিকে, বাবাকে খুব মিস করছি। এছাড়া আমরা দুই বোন-এক ভাই। কিন্তু আমি ছাড়া বাকি দুজনেই আছে দেশের বাইরে। তাঁদেরকেও খুব মিস করছি।
বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় বিসর্জনের দিন ঘুরতে যাওয়ার অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। তাঁর সঙ্গে সদরঘাটে বিসর্জন দেখতে যেতাম। এছাড়া আমরা যখন চট্টগ্রামে ছিলাম, তখনও বাবার সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনে যেতাম। সেখানে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। ঢাকের বাদ্য-বাজনায় চমৎকার আয়োজনে মেতে ওঠেন সবাই। আমার জীবনের সেরা স্মৃতিময় মুহূর্ত পতেঙ্গায় দেবী বিসর্জন দিতে যাওয়া। এছাড়া টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নৌকায় ঘুরে ঘুরে নদীতে বিসর্জন হয়। সেখানে সেতু থেকে দুই পাড়ের সবগুলো প্রতিমাই দেখা যায়।

এদিকে, আমাদের বাসায় দশমীর দিন সকালে একটা ছোট পূজা হয়। যেটার নাম যাত্রা। আর বিকালে ধর্মীয় অর্চনা হয়। সেদিন একাত্তরের স্মৃতিমাখা একটি বিগ্রহ আছে আমাদের, সেটি বের করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল পাকিস্তানি-রাজাকাররা। দেশ স্বাধীনের পর এই বিগ্রহটি সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
অনুলিখন: রাব্বানী রাব্বি



