নতুন পৃথিবীর সন্ধানে অতীতে ডুব দিলেন ‘টুয়েলভ ইয়ার্স আ স্লেইভ’খ্যাত অস্কারজয়ী নির্মাতা স্টিভ ম্যাকুইন। এবার তাঁর হাতে পর্দায় আসছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চালচিত্র। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫, এই পাঁচ বছরের সময়কালে নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে সংগঠিত বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি নির্মাণ করলেন তথ্যচিত্র ‘ওকুপিয়েড সিটি’। আর্কাইভকৃত ফুটেজের মাধ্যমে এ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে তাঁর স্ত্রী ইতিহাসবিদ ও নির্মাতা বিয়ানকা স্টিগটার রচিত ‘অ্যাটলাস অব অ্যান ওকুপিয়েড সিটি (আমস্টারডাম ১৯৪০-১৯৪৫)’ অবলম্বনে।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশ পেয়েছে তথ্যচিত্রটির ট্রেলার। এতে দেখা যায়, ম্যাকুইন তাঁর এই চলচ্চিত্রকে দুটি ভাগে তুলে ধরেছেন। এক, নাৎসিদের হাতে নির্যাতনের সেই ক্ষত এখনও তাড়া করে ফিরে আমস্টারডামের বাসিন্দাদের। দ্বিতীয়, সাম্প্রতিক বছরে মহামারি ও বিভিন্ন প্রতিবাদ-প্রতিরোধের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। যা দর্শকের কাছে এক ধ্বংসলীলা এবং এরমধ্যেই বেঁচে থাকার বিষয়কে উপস্থাপন করে। এ যেন স্মৃতি, সময় ও আমরা কোথায় যাচ্ছি তার ওপর নির্মিত এক গভীর ধ্যানের আখ্যান।
এ সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ম্যাকুইন বলেন, ‘আমি মনে করি আপনি যখন বর্তমানে যা ঘটছে সেই চিত্রগুলো ও অতীতের আসল গল্পগুলো পান এবং সবগুলো একত্রিত করেন, তখন আমাদের সবকিছুকে তা প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেননা এই সময়ে ডানপন্থীদের উত্থান ঘটেছে এবং তারা তাদের কাজকর্মের জন্য বৈধ কিছু প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছে।’
জানা যায়, তথ্যচিত্রটির দৈর্ঘ্য চার ঘণ্টা এবং এটি নির্মাণের জন্য ফুটেজ সংগ্রহ করতে তিন বছর লেগেছে ম্যাকুইনের। এ নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘লম্বা কিছু বানিয়ে ফেলব—এমন নয়, বরং এই ক্ষেত্রে আমি চেয়েছি যা যুক্তিযুক্ত তাই যেন হয়।’
তথ্যচিত্রটির বিষয়বস্তুর জন্য ম্যাকুইনকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্দিওয়্যার। রিভিউয়ে তাঁরা লিখেছে, সময়ের সঙ্গে আমস্টারডামের মতো একটি শহর কীভাবে এগিয়ে চলছে এবং এই যাত্রায় তাকে যেসব মনে রাখতে কিংবা ভুলে যেতে হবে—সেসবই উঠে এসেছে ‘ওকুপিয়েড সিটি’তে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর ৭৬তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী হয়। আগামী ২৫ ডিসেম্বর এটি থিয়েটারে মুক্তির কথা রয়েছে।



