বিএনপি–জামায়াতের লাগাতার হরতাল ও অবরোধের মধ্যে রাজধানীতে ৬৪টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ৬৪টি মামলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগুনের এ ঘটনাগুলো হয়। এর মধ্যে আগুন দেওয়ার সময় জনগণ ও পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ১২ জন। এ ছাড়া আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদপুরে একজন দুষ্কৃতিকারী মারা যান।
আটকদের মধ্যে অনেকে যাত্রীর বেশে গাড়িতে উঠে বা নীচ থেকে বাসে আগুন দেয়। আটকের সময় তাদের থেকে পেট্রল, গান পাউডার, দিয়াশলাই, তুলা, পুরোনো কাপড় জব্দ করা হয়।
এদিকে গত ২৯ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে নাঈম নামের এক তরুণ মারা যান। দগ্ধ হন রবিউল ইসলাম নামের আরেক তরুণ। তারা দুজনই অছিম পরিবহন বাসের হেলপার ছিলেন। ডেমরায় পার্কিং করা বাসে ওই রাতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।
বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন শতাধিক। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।
এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি–জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলো।
২৮ অক্টোবরে সহিংসতায উসকানি, নাশকতা ও আগুন দেওয়ার মামলায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কজন নেতাকে।


এবার রাজধানীর মাতুয়াইলে বাসে আগুন
২৭ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৩ যানবাহনে আগুন
