বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজীব। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দাপুটে অভিনয়ে পর্দায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। দর্শকদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় এই খল অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
খল অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও অভিনয়ের প্রত্যেক শাখায় দক্ষতা সঙ্গে নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন রাজীব। তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল নায়ক হিসেবে। ১৯৮২ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকন সোনা’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। তবে মূল অভিনেতার ভূমিকায় তিনি খুব বেশি জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা পাননি। তবে অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এমনকি বাংলা চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ‘রংবাজ’ ছবিতেও ভিলেন ছিলেন তিনি।
১৯৭৩ সালে পরিচালক জহিরুল হক নির্মাণ করেন এই ছবি। দেশীয় সিনেমার মধ্যে এতেই প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য দেখতে পেয়েছিল দর্শকরা। যে কারণে সিনেমাটি ইতিহাসের পাতায় বেশ আলোচিত। এ ছবির মাধ্যমেই বাংলা সিনেমায় নায়ক বনাম খলনায়কের দ্বন্দ্ব, প্রতিবাদী চরিত্র, শেষের দিকে এসে অশুভ শক্তির পরাজয় হওয়ার মতো একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছিল। পর্দায় খলনায়ক বা ভিলেনের মতো শক্তিশালী একটি পক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়। বলা যায়, ফর্মুলা সিনেমার ভিত গড়ে দিয়েছিল রাজীবের এই ছবি।

ক্যারিয়ারে প্রায় চার শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রাজীব। এর মধ্যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভাত দে’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘আজকের সন্ত্রাসী’, ‘দুর্জয়’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বাবার আদেশ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘ডন’, ‘দাঙ্গা’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’, ‘রাজা শিকদার’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি পটুয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন রাজীব। চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি। অভিনয়ের বাইরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


নজরুলের গান বিকৃতি বিতর্কে ক্ষমা চাইল ‘পিপ্পা’ টিম, তবে...
টেলিফিল্ম থেকে আসছে নিশো-মেহজাবীনের ওয়েব ফিল্ম!
