বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য। গত ৫ বছরে নিজের বার্ষিক আয় কমলেও সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ।
একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা যায়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর বার্ষিক মোট আয় ছিল ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯০৫ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ৭১ হাজার ৫১৬ টাকা। তাঁর স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৫৩৮ টাকা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর মোট আয় ও স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কমলেও বেড়েছে মন্ত্রীর নিজের নামে সম্পদের পরিমাণ। এতে দেখা যায়, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর মোট বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার ৫৮৬ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ১ হাজার ৪৮৮ টাকা। এদিকে, নির্ভরশীলদের নামে ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৬ টাকা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেখা যায়, মো. মাহবুব আলীর বার্ষিক মোট আয় ছিল ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯০৫ টাকা। এরমধ্যে কৃষখাত থেকে আয় ৮০ হাজার টাকা, বাসা-দোকান ভাড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৫ টাকা, আইন পেশা থেকে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য হিসেবে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিজের নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ৭১ হাজার ৫১৬ টাকা। এরমধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি নিজের কাছে নগদ টাকা ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ৮০ লাখ ৭ হাজার ৫১৬ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা, নিজ নামে গাড়ি ঢাকা মেট্রো গ ১৯-৬৫৫৩, মেট্রো ঘ ১৫-৩৩৪৭ মূল্য ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নিজ নামে ৩০ ভরি অলঙ্কার, ইলেকট্রিক সামগ্রি ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি কৃষি জমি ২৪ বিঘা মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দালান ৪ তলা বিল্ডিং মূল্য ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৫৩৮ টাকা। এরমধ্যে স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পত্তি ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৮ হাজার ১৮ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ৬৪০ টাকা, ৩০ ভরি অলঙ্কার, ইলেকট্রিক সামগ্রী ২ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ টাকা, ব্যবসায় মূলধন ৭১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮০ টাকা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেখা যায়, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলীর মোট আয় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার ৫৮৬ টাকা। এরমধ্যে কৃষখাত থেকে আয় ৮০ হাজার টাকা, বাসা-দোকান ভাড়া ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত থেকে ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ টাকা, সংসদ সদস্য হিসেবে ১১ লাখ ৪ হাজার টাকা। নিজের নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ১ হাজার ৪৮৮ টাকা। এরমধ্যে অস্থাবর সম্পদের নিজের কাছে নগদ টাকা ৩ লাখ ৫০০ টাকা, ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ৩ কোটি টাকা ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৮ টাকা, নিজ নামে গাড়ি ঢাকা মেট্রো গ ১৯-৬৫৫৩, মেট্রো ঘ ১২-২৪৭৬ মূল্য ১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। নিজ নামে ৩০ ভরি অলঙ্কার, ইলেকট্রিক সামগ্রি ৫ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি ২৪ বিঘা মূল্য ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দালান ৪ তলা বিল্ডিং মূল্য ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, চা বাগান, রাবার বাগানের আর্থিক মূল্য ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩৭০ টাকা। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪২ লাখ ১ হাজার ২৩৫ টাকা। এরমধ্যে স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩৫ টাকা, ৩০ ভরি অলঙ্কার, ইলেকট্রিক সামগ্রী ৫ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকা, ব্যবসায় মূলধন ৭১ লাখ ৪২ গাজার ৮৮০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে চা বাগান, রাবার বাগানের আর্থিক মূল্য ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৬ টাকা।
বাংলাদেশের কমিনিস্ট পার্টির হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক পিযুষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি বিগত দিনে যারা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাঁদের সম্পদের পরিমাণ অনেকগুন বেড়েছে। তা দেখে জনগণ স্তম্ভিত। জনগণের সম্পদ কমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বাড়ার বিষয়টি বিরাট বৈষম্য। এই বৈষম্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। ‘৯০ এর স্বৈরাচারের পতনের পরে ও আজকের এতদিন যাবত যারা জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন তাদের সম্পদ বাড়ছে– এটা উদ্বেগের কারণ। চরম বৈষম্য। আমরা বৈষমের অবসান চাই।’
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ–সভাপতি মনজুর উদ্দীন শাহীন বলেন, ‘আমরা দেখছি গত একমেয়াদ, দুই মেয়াদ বা তিন মেয়াদে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তাঁদের প্রথমবারের সম্পদের বিবরণ আর সর্বশেষ বিবরণে বিশাল ফারাক। এবার দেখলাম কারও সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ, তিনগুণ, এমনকি শতগুণ বেড়েছে।’



