সেলুলয়েডে উঠে এলো মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল বাতিল করে সেনাবাহিনী পূর্ণ ক্ষমতা নিলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। তরুণদের একাংশ অবতীর্ণ হয় জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে। তারপর থেকেই দেশটির লাখো মানুষ ঘরছাড়া। তেমনই এক ঘড়ছাড়া যুবক ৩৫ বছরের বো তেট ঠোন। ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ‘ভাঙা স্বপ্ন’ (ব্রোকেন ড্রিমস) ছবির নির্মাতাদের একজন তিনি।
বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে (১০ ডিসেম্বর) কলকাতার রবীন্দ্রসদনে প্রদর্শিত হয় ‘ভাঙা স্বপ্ন’। তারপর স্থানীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নির্মাতা বো। জানান, তিনি থাকেন উত্তর থাইল্যান্ডে। কিন্তু ঠিক কোথায় তা জানাননি মিয়ানমারের দেশছাড়া এই যুবক। তিনি বললেন, ‘আমার পরিবারের বিষয়েও কিছু বলা যাবে না। কারণ ওরা জীবনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমি নিজেও যে পুরোপুরি নিরাপদ, এমনটা বলতে পারছি না!’

‘ভাঙা স্বপ্ন’ মূলত ৯টি ভিন্ন ভিন্ন গল্পের অ্যান্থোলজি ফিল্ম।
এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার লিখেছে, ‘সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী মিয়ানমারে শোষণ, আতঙ্ক, মানসিক আঘাত, স্বজন বিয়োগ, শাসকের নিষ্ঠুরতা, স্বপ্ন ও প্রতিরোধের আখ্যানে স্তব্ধ হয়ে মনে হয় যেন একটি ছবিই হয়ে চলেছে।’
শুধু বো তেট ঠোনেই নন, মিয়ানমার বা তার বাইরে ছড়িয়ে থাকা অন্য পরিচালকদের বর্তমান ঠিকানাও গোপনীয়। যে কারণে রোববার রবীন্দ্রসদনে সিনেমাটির প্রদর্শনের সময় সেই বন্ধুদের দেখাতে বড় পর্দার ছবি তুলছিলেন বো। মিয়ানমারের ঐতিহ্যমাখা শার্ট ও ডোরাকাটা ‘লুঙ্গি’তে সেজে শোয়ের আগেও তিনি বলছিলেন, ‘এর মধ্যে আমাদের কলিজার টুকরো দেখতে পাবেন!’ সেই কথাই যেন সত্যি হলো। প্রদর্শনীর পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছে ছবিটি। মিয়ানমার কীভাবে বেঁচে আছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে তাই দেখল কলকাতা। এমন একটা ছবি দেখেছেন তাঁরা, যার শিল্পী-কলাকুশলীরা সকলেই দেশছাড়া কিংবা গা-ঢাকা দিয়ে আছেন।

জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরে দেশ ছেড়েছেন বো। ভাঙা স্বপ্ন তাঁর ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ছবি। যেখানে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় অভিনয় করেছেন ঘরছাড়া মানুষজন। তবে অন্য পরিচালক বা অভিনয়শিল্পীদের অনেকে দেশটির তারকা, সুপরিচিত। একজন নামী গায়িকা জেলে নির্যাতিতা একটি মেয়ের আতঙ্ক পরবর্তী মানসিক বৈকল্য বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার অবস্থা ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্য এক প্রতিবাদী ছাত্রীর চরিত্রে রয়েছেন মিয়ানমারের জনপ্রিয় নায়িকা। সামরিক জান্তাবিরোধী বিপ্লবীদের সংশয় ও অন্তর্দ্বন্দ্বও অকপটে তুলে ধরে ছবিটি।
বো বলেন, ‘আমরাও মানুষ। আমাদেরও কখনো হতাশ লাগে। একটু দম ফেলতে, স্বার্থপরের মতো বাঁচতেও ইচ্ছে করে। কিন্তু পরক্ষণে ভাবি, হাল ছাড়লে চলবে না। এ লড়াইয়ের শেষ দেখেই ছাড়ব!’
রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়েও সমব্যথী বো। তিনি বলেন, ‘তাঁরা তো সামরিক শাসনের আগে থেকেই ভুগছেন।’
এদিকে, রাষ্ট্রীয় জরিপে মিয়ানমারের ২০ লাখের বেশি বাসিন্দা দেশছাড়া। বো বললেন, “জান্তা সেনাবাহিনীর অনেকেই ক্রমশ বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। ওরাও একনায়কতন্ত্র নিতে পারছেন না।’


জোলি-জ্যাকি থাকার পরও ‘কুংফু পান্ডা’য় ধসের শঙ্কা
