রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। আজ শুক্রবার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে আহত রোগীদের দেখতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, গতকাল রাতে অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা ঘটে, যেটি কখনো কাম্য ছিল না। এই দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৪৬ জন মারা গেছেন। বাকি যে কয়জন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে তাদের জন্য চেষ্টা করছি। আমি এখন আবার চিকিৎসকদের নিয়ে বসব। একটি পরিকল্পনা করব কীভাবে কী করা যায়।
এদিকে বেইলি রোডের ভয়াবহ আগুনে নিহতের মধ্যে ৩৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত স্বজনরা শনাক্ত করার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নুর (এনডিস) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিহত ৪৪ জনের মধ্যে ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্বজনরা তাদের চেহারা, জামাকাপড় দেখে শনাক্ত করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মরদেহগুলো তাদের কাছে দেয়া হয়েছে।’
বাকি মরদেহগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শনাক্ত না হওয়া ৬ জনের মধ্যে ৫ জনেরই চেহারা বোঝা যাচ্ছে। তবে একটি মরদেহ পুড়ে একেবারে অঙ্গার হয়ে গেছে। সেই মরদেহটি ডিএনএ টেস্ট ছাড়া হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। প্রথম দুই ঘণ্টা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাত ১২টার পর থেকে আহত ব্যক্তিদের ভবন থেকে বের করে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ছয়তলা ভবনটিতে থাকা সিঁড়ি ছিল সরু। শুধু তাই নয়,সিঁড়িতেও রাখা ছিল গ্যাসের সিলিন্ডার। ফলে সিঁড়ি দিয়ে আটকে পড়াদের বেরিয়ে আসাটা কঠিন ছিল।



