হঠাৎ করেই অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর বিরুদ্ধে আনা চুক্তিভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল মিডিয়ায়। দুই দিন ধরে চলা এই বিতর্কের সমাধান এলো গতকাল (১৬ মার্চ) মধ্যরাতে।
সন্ধ্যায় অভিনয় শিল্পী সংঘের অফিসে অপূর্ব ও অভিযোগকারী আলফা আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার করিম ভূঁইয়া (শাহরিয়ার শাকিল) বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তারা বলেন, পুরো বিষয়টি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঘটেছে।
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে অপূর্ব ও শাহরিয়ার শাকিল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবীব নাসিম, সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান, টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপাব)-এর সভাপতি মনোয়ার পাঠান ও সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই স্টুডিওসের মধ্যকার সংঘটিত কাজের চুক্তিবিষয়ক যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তাতে উভয় পক্ষই প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব) ও অভিনয় শিল্পী সংঘের কাছে অভিযোগ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সভা হয়।
সে সভায় সবার কাছে এটাই প্রতীয়মান হয় যে চুক্তি মোতাবেক উভয় পক্ষই পরিপূর্ণভাবে কার্য সম্পাদন করেনি। চুক্তি অনুযায়ী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ৯টি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং বাকি নাটকগুলো উভয় পক্ষই আর না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অপূর্বকে প্রদান করা বাকি যে নাটক বাবদ অগ্রিম অর্থ, তা উভয় পক্ষ সমন্বয় করে নেবে। সেখানে আরও বলা হয়, উদ্ভূত ঘটনা কোনোভাবেই অর্থ আত্মসাৎ নয়, এটা চুক্তিবিষয়ক জটিলতা। পুরো বিষয়টি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঘটেছে।
দুই সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উদ্ভূত ঘটনা কোনোভাবেই অর্থ আত্মসাৎ নয়, এটা চুক্তি বিষয়ক জটিলতা। পুরো বিষয়টি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদ মাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে তা উভয় পক্ষের জন্যই বিব্রতকর এবং অপ্রত্যাশিত।
এর আগে অপূর্বের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত ৩ মার্চ লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় আলফা আই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, তাদের থেকে ২৪টি নাটকের জন্য ৫০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে মাত্র ৯টি নাটকে কাজ করে তেত্রিশ লাখ টাকা নিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ থেকে বিরত রয়েছেন অভিনেতা। এরপর তারা গত ১১ মার্চ লিখিত অভিযোগ দেয় অভিনয় শিল্পী সংঘ ও টেলিপ্যাবে।



