এক সময় মানুষের মধ্যে সংবাদ জানার কিংবা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল রেডিও। প্রযুক্তির বিকাশে বেড়েছে মোবাইল, ইন্টারনেটের ব্যবহার। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় উপকূলের মানুষের কাছে এখনও ভরসা জায়গা রেডিও।
ঘূর্ণিঝড় এলেই উপকূল অঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকে না। এ সময়ে পাওয়া যায় না মোবাইল নেটওয়ার্ক। ফলে আবহাওয়ার সংবাদ শোনার একমাত্র ভরসা রেডিও।
খুলনার কয়রার কাঠকাটা গ্রামের দোকানি আব্দুল্লাহ। ঘূর্ণিঝড় রিমালের মধ্যেও পেটের দায়ে দোকান খুলে বসেছেন তিনি। সেইসঙ্গে রিমালের সবশেষ তথ্য জানতে রেডিও চালিয়ে বসে আছেন এই দোকানি। দোকানে বসে থাকা অন্যরাও মনোযোগ দিয়ে শুনছেন সেই খবর।
দোকানি আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এখন তো কারেন্ট নাই, মোবাইলে নেট নাই, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সিগন্যাল জানার জন্য রেডিওটা আমি ব্যবহার করছি।’
বাইরে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতে নেই বিদ্যুৎ। মোবাইল নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। তাই, বেদকাশী গ্রামের বেসরকারি সংস্থার কর্মী পঙ্কজ কর্মকার সপরিবারে শুনছেন রেডিও। চেষ্টা করছেন রিমালের গতিবিধি বোঝার।
এনজিওকর্মী পঙ্কজ বলেন, ‘দুর্যোগ আসলে কোনোভাবে বিদ্যুৎ থাকে না। সে ক্ষেত্রে রেডিওটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
সারা দেশে রেডিও সম্প্রচার যেখানে বিলুপ্তির পথে সেখানে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দিনদিন আরও বেশি নির্ভরশীল হচ্ছেন রেডিওর ওপর। ছোট-বড় যেকোনো দুর্যোগের খবর জানতে তাদের একমাত্র ভরসা পুরোনো এই মাধ্যমটির ওপর।
এক স্থানীয় যুবক বলেন, ‘দুর্যোগ হলে আমরা মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাই না, বিদ্যুৎ না থাকায় টেলিভিশনও দেখতে পাই না। এই জন্য রেডিওটা আমাদের একমাত্র ভরসা।’
আরেকজন বলেন, ‘রেডিওর মাধ্যমে আমরা দুর্যোগের সিগন্যাল শুনি। এরপর সে অনুযায়ী আমরা সাইক্লোন সেন্টারে যাওয়ার চেষ্টা করি।’
উপকূলে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন এনজিওর পক্ষ থেকে অথবা নিজ উদ্যোগেও অনেকেই রেডিও কেনেন দুর্যোগ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য।



