কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫–২০ কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। তবে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পরে বিক্ষোভটি মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় এসে তীব্র আকার ধারণ করে।
শিক্ষার্থীরা উভয় পাশের সড়ক বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে তারা বলতে থাকেন, লেগেছেরে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে; আমার সোনায় বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই; কোটা না মেধা, মেধা, মেধা; শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই; বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই; জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে; ১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার; কোটা নামে কুঠার দিয়ে মেধার পিঠে আঘাত কেন; ৫২ এর হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার; কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করতে তাদের এই বিক্ষোভ। তাদের একমাত্র দাবি কোটা প্রথা বাতিল হোক। কোটা প্রথা বাতিলের মাধ্যমে তাঁরা চাকরির সুষম বণ্টন চান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ব্যাপক ভোগান্তি পড়েছেন উভপাশের যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। রাতে যাদের ফ্লাইট আছে তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদেশগামী একাধিক যাত্রী জানান, অনেকের রাত ১০টা ও ১১টায় ফ্লাইট আছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিদেশ যেতে পারবেন না তাঁরা।
ময়মনামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে উভয় দিকের রাস্তায় প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও মতো যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনগুলো বাইপাস দিয়ে গন্তব্য যাচ্ছে।



