জামালপুরে ৩ জুলাই দুপুর থেকে দুদিন পানি বাড়ার পর ৬ জুলাই সকাল থেকে ধীরে কমছে যমুনা নদীর পানি। আজ সোমবার বেলা ১২টায় যমুনা নদীর পানি জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে যমুনার পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বন্যার পানি ধীরে নামায় দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসীদের। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর সদর ব্যতীত বাকি ছয় উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে এখন পানিবন্দি রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৩২টি পরিবারের ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ জন মানুষ। এর মধ্যে জেলার ১৫টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৮৩৮ জন বানভাসী। এ ছাড়াও বানভাসীদের স্বাস্থ্যসেবায় ২২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে ১৭টি টিম।
এ ছাড়াও শিক্ষা বিভাগ থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ২৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, সাত উপজেলার ১ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমির আউশ, ১০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমির পাট, ৮৭৩ হেক্টর জমির শাকসবজি, ৩০ হেক্টর জমির তিল, ৭২.৫ হেক্টর জমির মরিচ, ৮৫ হেক্টর জমির ভুট্টা, ১২ হেক্টর জমির আখ ও ১৫ হেক্টর জমির কলা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জেলার ইসলামপুর উপজেলার বামনা বাজার এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে বামনা বাজার ও এর আশপাশের এলাকা। সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছে বাজারের পাশে একটি সেতুতে।
সেতুতে আশ্রয় নেওয়া আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এতদিন থেকে আমরা বন্যার পানিতে আটকে আছি। আজ পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নিতে এলো না। আমরা কেমন আছি? কী খাচ্ছি? মরে গেছি নাকি বেঁচে আছি? কেউ একটাবার উঁকিও দিলো না।’
সেতুতে আশ্রয় নেওয়া শফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ‘আমাদের এখানে ত্রাণ আসে না। যেখানে মানুষ সহজে যাইতে পারে। যেখানে শুকনো এলাকা। সেখানে ত্রাণ আগে যায়। আমাদের এই জায়গায় সবারই আসতে কষ্ট হয়। তাই এখানে ত্রাণ আসে না। আর আমরা কষ্টে থাকি।’
জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, এ পর্যন্ত বানভাসীদের মাঝে ৫৩৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৭৭৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে।
‘বন্যাকবলিত এলাকায় সবাই ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য না। যাদের ত্রাণের প্রয়োজন আছে। শুধুমাত্র তারাই ত্রাণ পাচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’— বলেন মো. আলমগীর হোসেন।
বন্যার পানির বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর পানি যে নদীতে গিয়ে মিলিত হয় সেখানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের পানি কমতে সময় লাগছে। এ ছাড়াও যমুনা নদী ও এর তীরবর্তী অঞ্চল সমান্তরাল এবং ঢালু না হওয়ায় পানি কমছে ধীরে।



