অভিজাত পোশাক না পরায় পারস্যের বিখ্যাত কবি শেখ সাদীকে নিমন্ত্রণ বাড়িতে অপদস্থ করার গল্প আমাদের সবার জানা। পোশাক দিয়ে ব্যক্তির পরিচয় আর সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণের প্রচলন এখন আর নেই। তবে এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, সঠিক পোশাক নির্বাচনে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।
এজন্য পোশাক যে দামি হতে হবে তা নয়। বরং আপনার নিজস্ব স্টাইলেই আপনাকে দেখাবে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। আমরা যা পরিধান করি, সেটি দ্বারা আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং চিন্তাচেতনা প্রভাবিত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘এনক্লথড কগনিশন’। মূল ধারণাটি হলো, পোশাক আমাদের মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় যা আমাদের মেজাজকে ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক করে তোলে।
গড়ন বুঝে পোশাক
নিজের গড়ন অনুযায়ী সঠিক মাপের পোশাক পরলে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে। খুব আঁটসাঁট নয়, আবার ঢিলেঢালাও নয়, পোশাক হওয়া উচিত এমন। একদিন ওজন ঝরিয়ে ছিপছিপে হয়ে উঠলে পরা যাবে, এই আশায় আমরা অনেক আঁটসাঁট পোশাক আলমারিতে রেখে দেই। এ ক্ষেত্রে ভালো হয় এসব পোশাক সহজেই পরতে পারবে এমন কাউকে দিয়ে দিন। আপনাকে বুদ্ধিমান ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরবে, এমন পোশাকই কাছে রাখুন।
নিজের স্টাইল বুঝুন
পোশাক নির্বাচন হয়ে গেলে স্বস্তি ও আরাম বুঝে নিজের জন্য একটি স্টাইল বাছাই করুন। আপনাকে কোন ধরনের কাট, কাপড়, রং এবং নকশায় মানায়, সেটি বুঝুন। আপনি কি সব সময় একই রকম নকশায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন? নাকি চলতি ট্রেন্ডে গা ভাসানো আপনার স্বভাব? পোশাক পরে যদি হাঁসফাঁস লাগে, পোশাকের ফেব্রিকের কারণে অস্বস্তি জন্ম নেয়- তাহলে কোনোভাবেই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে আলাপ চালাতে পারবেন না। তাই অন্যের চোখের মাপে নয় বরং নিজস্ব মানদণ্ডতে পোশাককে মাপুন।
অনুকরণ নয়
ছবি বা লাইভে দেখে ভালো লেগেছে, কিন্তু হাতে পাওয়ার পর আর ভালো লাগছে না। কম মানুষই বোধহয় আছেন যারা এমন ‘অনলাইন প্রতারণার’ শিকার হননি। আসলে প্রতিটি মানুষের গড়ন আলাদা। তাই সামাজিক মাধ্যমে মডেল বা ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারের গায়ে যে পোশাক দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন, সেটিই আপনি নিজে পরার পর আর মানাচ্ছে না। আবার অনেকেই বিভিন্ন তারকার পরা পোশাক অনুকরণ করে থাকেন। অন্যের স্টাইল থেকে আপনি অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, তবে অন্ধ অনুকরণ করতে যাবেন না। নইলে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ় হিসেবে তুলে ধরার পরিবর্তে অন্যের কাছে হাসির পাত্র হয়ে উঠবেন।
তুলনা করা বোকামি
আলুর চিপস আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মধ্যে কি কোনো তুলনা হয়! দুটো খাবারই কিন্তু সুস্বাদু আর মানুষের কাছে প্রিয়। ফ্যাশন ও স্টাইলের ক্ষেত্রেও তুলনার কোনো স্থান নেই। কাউকে শাড়িতে মানাবে, আবার কাউকে পাশ্চাত্য পোশাকে। কেউ হিল জুতায় দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলেন, আবার এমনও অনেকে রয়েছেন ফ্ল্যাট স্যান্ডেল ছাড়া যাদের চলে না। সবার মধ্যে নিজেকে সবচাইতে সুন্দর হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য পোশাক যেন আপনার নিজের জন্য আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দ হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার।
তথ্যসূত্র: গ্যাব্রিয়েল আরুদা


চলতি মৌসুমে ট্রেন্ডি ৪ গয়না
কেমন হবে অফিসে পরার গয়না?
