নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করেছে বুয়েট ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান চালানো যাচ্ছে না। এ কারণে নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান বন্ধ রয়েছে।
আজ সকালে রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানার আগুনে পুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর রাকিব আহসান, ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হকসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি এ ভবনে উদ্ধার অভিযান করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ওপরের তিনটি ফ্লোরের ছাদের অংশ ভেঙে পড়েছে। তাই উদ্ধার অভিযান করা ঝুকিপূর্ণ। দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলায় চার, পাঁচ ও ছয়তালার ছাদ ভেঙে গেছে। ভবনে বিম বাকা হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে ভনের ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় অভিযান করতে গেলে ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। এসময় কোনো মরদেহ চোখে পড়েনি।’
এদিকে তিন দিন দিনরাত অপেক্ষা করেও আগুনে নিখোঁজদের সন্ধান পাচ্ছে না স্বজনরা। তাই গায়বানা জানাজা ও দাফনের জন্য আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ছাই নিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের আহাজারি শোনার কেউ নেই– এমন অভিযোগও স্বজনদের।
সুনামগঞ্জ সদরের আমপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন ছেলে মনির হোসেন গাজী টায়ারের আগুনে নিখোঁজ হন। তিনদিন অপেক্ষা করে মনিরের সন্ধান না পেয়ে মায়ের আকুতিতে তার ভাই ভবনের পোড়া অংশ থেকে ছাই নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই মাটি দিয়ে গায়বানা জানাজা দিয়ে ভাইয়ের লাশ মনে করে দাফন করব৷’
এমন অনেক মনির হোসেনের পরিবার নিখোঁজদের সন্ধানে দিনরাত অপেক্ষা করছে গাজি টায়ারের প্রধান ফটকে।
অন্যদিকে আজ দুপুরে গাজী টায়ার কারখানায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ৬ তলা ভবনের বেজমেন্টে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সেখানে কোনো মরদেহ পায়নি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘উপরের তলাগুলো ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আজ আমরা এ ভবনের নিচের তলা বেসমেন্টে অভিযান চালিয়ে দেখেছি সেখানে কেউ আটকে ছিল কিনা। সেখানে কোনো মরদেহ পাইনি।’



